কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার
কুমিল্লা প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:০৪ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
অপ্রতিম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তুহিন নামে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আজ শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম।
ওসি বলেন, মোবাইল ফোনের জন্যই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা অনেকটা নিশ্চিত। আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃত হত্যাকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার একজন ব্যবসায়ী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। দীর্ঘ সময় খোঁজ না পেয়ে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ছেলের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের ছবি দিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি জানান এবং তাকে খুঁজে পেতে সবার সহযোগিতা চান।
শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুরে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। পরে তিনি অপ্রতিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সমবেদনা জানান।
সাংবাদিকদের কাছে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একজন শিশুকে রক্ষা করতে না পারায় তিনি দুঃখিত। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আটক করে বিচারের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম। ছেলের এমন নির্মম মৃত্যুর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছেন—এটি তার অপরাধ হতে পারে না। একমাত্র ছেলেকে এভাবে কেন হত্যা করা হলো, তার জবাব চান তিনি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হত্যার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে এবং মোবাইল ফোনটি কোথায়—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
