বামপন্থীদের জয়: প্রথম অভিবাসী মেয়র পেতে যাচ্ছে বার্লিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৭:১৫ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
তুর্কি বংশোদ্ভূত নেত্রী এলিফ এরলপ
জার্মানির রাজধানী বার্লিনের সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে বামপন্থী দল ‘দি লিংকে’ (Die Linke)। তুর্কি বংশোদ্ভূত নেত্রী এলিফ এরলপের (Elif Eralp) নেতৃত্বে আসা এই বিজয়ে উল্লাস ও আশার সঞ্চার হয়েছে শহরের বিশাল অভিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে। এটি বার্লিনের ইতিহাসে প্রথম কোনো অভিবাসী পটভূমির এবং প্রথম কোনো বামপন্থী দলের মেয়র হওয়ার পথ সুগম করেছে।
বার্লিনের রাজনীতিতে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবাড়ি সংকট, আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া এবং উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (AfD) অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল, সেখানে বামপন্থীদের ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও অভিবাসীদের স্বস্তি
তরুণ ও সাধারণ আয়ের মানুষের সমর্থনে শীর্ষে আসা এলিফ এরলপ নির্বাচনী প্রচারণায় বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছিলেন:
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ: অস্বাভাবিক বাড়িভাড়া রোধে সর্বোচ্চ সীমা (Rent Cap) নির্ধারণ এবং বড় বড় কর্পোরেট আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বাড়ি অধিগ্রহণ করা।
অভিবাসীদের ভোটাধিকার: স্থানীয় নির্বাচনে অ-নাগরিক অভিবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলন।
সামাজিক কল্যাণ: গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করা।
বার্লিনের প্রায় ৩৬ লাখ বাসিন্দার অর্ধেকের কাছাকাছি মানুষেরই অভিবাসী পটভূমি রয়েছে। বিশেষ করে তুর্কি ও আরব সম্প্রদায়ের মানুষ মনে করছেন, ডানপন্থীদের বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিপরীতে এই ফলাফল তাদের নিরাপত্তার অনুভূতি দেবে।
উগ্র ডানপন্থীদের চ্যালেঞ্জ ও নতুন সমীকরণ
একদিকে বার্লিনে বামপন্থীদের উদযাপনের আমেজ, অন্যদিকে পুরো জার্মানিজুড়েই উগ্র ডানপন্থী দল AfD শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। তারা বার্লিনে ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং জার্মানির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে।
পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় এলিফ এরলপ ও তার দল 'দি লিংকে'-কে এখন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (SPD) এবং কনজারভেটিভদের (CDU) সাথে জোট গঠন করতে হবে। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে মিত্র দলগুলোর ভিন্নমত থাকায় সরকার গঠনে দীর্ঘ দরকষাকষির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
তা সত্ত্বেও, অভিবাসী ও যুবসমাজ একে জার্মানির রাজনীতিতে এক ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবেই দেখছেন।
