ঢাকা, শনিবার ২৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:৫১:৫৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

জ্বালানি তেলের ধাক্কায় চড়া বাজার, চাপে ক্রেতা

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৯ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে সবজি ও মাছের দাম গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছের দামও বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের চিত্র ও সাম্প্রতিক বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা যায়, পটোল, ঢেঁড়স, বেগুন, ঝিঙা, ধুন্দুল ও করলার মতো সবজির দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী। কোথাও কোথাও গোল বেগুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, শিম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনিয়াপাতার দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

অন্যদিকে ধুন্দুল, চিচিঙ্গা ও করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে আজকের বাজার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মাছেও বাড়তি চাপ

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। শিং মাছ কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। কই, পাবদা, চিংড়ি, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও রুইয়ের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজারভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে।

আজকের আরেক বাজার প্রতিবেদনে পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে—আকারভেদে কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

মুরগি-ডিমেও স্বস্তি নেই

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাদামি ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকা। দেড় মাস ধরে মুরগি ও ডিমের দাম প্রায় একই পর্যায়ে থাকলেও আগের তুলনায় দাম এখনো বেশি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দৈনিক বাজারদরেও ফার্মের মুরগি ১৬২ থেকে ১৬৭ টাকা এবং ফার্মের লাল ডিম ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা হালি দরে দেখানো হয়েছে। গরুর মাংস ৭২৯ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি।

তেলের সরবরাহ কম

বাজারে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমেছে। পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহও কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। চলতি মাসের শুরুতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ২০৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল।

এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বাড়ার খবর এসেছে। সাম্প্রতিক এক বাজার প্রতিবেদনে এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ার কথা বলা হয়েছে।

বিক্রেতার কথা

ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা ইয়ামিন মোল্লা বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। তবে সব পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়েনি।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেনও বলেছেন, এখনই সব পণ্যের দাম বাড়ানোর পরিস্থিতি হয়নি। তবে পাইকারি বাজার থেকে আগামী কয়েক দিনে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।

ডিম বিক্রেতা মহসিন হাসানের ভাষ্য, অতিবৃষ্টি ও গরমে অনেক খামারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন কমেছে। পাশাপাশি মুরগির খাবারের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা কম।

ক্রেতার হিসাব মেলানো কঠিন

বাজারে বাড়তি দামের প্রভাব নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। সবজি কিনতে আসা শিমুল মিয়া বলেন, প্রায় প্রতিটি সবজিই আগের তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তেল-গ্যাসসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়লে তার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে, আর এতে মধ্যবিত্তদের কষ্ট বেশি হয়।

মুরগি কিনতে আসা আসাদ রহমান বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিম ও মাংসের দাম প্রায় একই থাকায় কিছুটা স্বস্তি ছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সবজির বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে; ডিম-মুরগির বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

সামনে আরও চাপের আশঙ্কা

জ্বালানি তেলের নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব সব পণ্যের দামে একসঙ্গে পড়ে না; ধীরে ধীরে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ফলে এরই মধ্যে বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য বাজার সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মাছ, সবজি, ডিম ও মুরগির মতো প্রতিদিনের খাদ্যপণ্যে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবারের মাসিক খরচে। এখন ক্রেতাদের প্রশ্ন—জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচের পুরো চাপ শেষ পর্যন্ত কতটা গিয়ে ঠেকবে তাদের বাজারের ব্যাগে?