ঢাকা, শনিবার ২৬, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:৫০:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি কোটা ৩০ ভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

ইতালির স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার বিধান অনুমোদন করেছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। নতুন ডিক্রি-ল’র আওতায় এসব বিধান কার্যকর হবে। নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইতালির মন্ত্রিসভা স্কুলশিক্ষা ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূতকরণসংক্রান্ত এই ডিক্রি অনুমোদন করে। এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মেলোনির রাজনৈতিক দল ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর যুব সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করা হয়েছিল। ডিক্রি-ল’ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে পারে, তবে এটি আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই এমন শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেণিতে সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখা, ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের বিভক্ত না করে একীভূত হতে সহায়তা করবে এবং শ্রেণিকক্ষে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত বা নিরাপত্তাজনিত কারণ ছাড়া মুখ ঢেকে স্কুলের পাঠ্যক্রমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যাবে না। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানার দায় তার অভিভাবকের ওপর পড়বে। জরিমানার পরিমাণ ২০০ থেকে ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ইতালীয় ভাষায় গুরুতর দুর্বলতা থাকলে এবং তা তার শিক্ষা ও সহপাঠীদের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করলে, তার পরিবারকে বিনামূল্যে ইতালীয় ভাষা শেখার কোর্সে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অভিভাবকরা ওই কোর্সে অংশ না নিলে ২০০ থেকে ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশ সীমা সব বিদেশি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এবং ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেনি বা অন্তত দুই বছর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা নেয়নি, এমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে এই সীমা প্রযোজ্য হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এবং অন্তত তিন বছর ইতালির জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় সফলভাবে পড়াশোনা করেনি, এমন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণিতে সীমাটি কার্যকর হবে।

তবে রাজনৈতিক বিরোধী দল ও শিক্ষক সংগঠনগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন বিধান বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা হয়নি। স্কুলপ্রধানদের একটি অংশও বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এই নীতি বাস্তবায়নের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোতে অ-ইতালীয় নাগরিক শিক্ষার্থীর হার ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী থাকা শ্রেণির হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

ডিক্রি-ল’ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সার্জিও মাতারেলার স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা