‘ইভিএম হাইজ্যাক করে হারানো হয়েছে’, পুনর্নির্বাচনের দাবি মমতার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৩২ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার
সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় হয়নি, বরং গভীর চক্রান্ত ও ইভিএম ‘হাইজ্যাক’ করে জোরপূর্বক হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্যে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পাঁচ মাস পর শনিবার কলকাতার বাইরে প্রথম রাজনৈতিক সমাবেশ করেন মমতা। স্থানীয় পুলিশের অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে হুগলির শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “এসআইআর বাতিল করে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই বাংলায় অবিলম্বে পুনর্নির্বাচন নিতে হবে। শুধু বাংলাই নয়—বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও নতুন করে ভোট করতে হবে। ইভিএম জালিয়াতি ও এসআইআরের অপব্যবহার করে ওরা ক্ষমতা দখল করেছে। ভোটে আমরা পরাজিত হইনি, চক্রান্ত করে আমাদের হারানো হয়েছে। সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও অনগ্রসরদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে; সাধারণ মানুষ এখনো আমাদের সঙ্গেই আছেন।”
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কড়া সমালোচনা করে মমতা বলেন, ভোটার তালিকা থেকে কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়ে জুলুম করার কারণেই আজ তাঁর বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ব্যঙ্গ করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিতর্কিত এসআইআরের মারফত রাজ্যের প্রায় ৯২ লাখ বৈধ ভোটারের নাম ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়া হয়েছে। আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালনের দায়ে অবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন তিনি।
রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় বসার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সাধারণ মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্পে অনিয়ম চলছে, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং সর্বত্র সিন্ডিকেট রাজ ও চাঁদাবাজি কায়েম করা হয়েছে।
এদিকে শ্রীরামপুরের জনসভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় হামলার শিকার হন তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়িবহরে কালো পতাকা প্রদর্শন, স্লোগান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কাঁধে চোট পান বলে দাবি করেন তিনি। পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে যান এবং এ ঘটনার পেছনে বিজেপিকে দায়ী করেন। তবে বিজেপির পাল্টা দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে একই ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কংগ্রেস। সমাবেশ চলাকালে নির্বাচন কমিশনারের কুশপুত্তলিকা দাহ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তা কেড়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
