ভারত ও নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ভয়াবহ বিপর্যয়, নিহত ৭০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৩৮ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
সংগৃহীত ছবি
ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক ভূমিধসের কারণে ভারত ও প্রতিবেশী দেশ নেপালে চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগে ভারতে ৫৬ জন এবং নেপালে ১৪ জনসহ মোট ৭০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে আরও অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে দুই দেশের প্রশাসন।
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যটির ত্রাণ কমিশনার হৃষিকেশ ভাস্কর যশোদ রোববার জানিয়েছেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে ৬৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে এই সময়ের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্রা মাত্র ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
অস্বাভাবিক এই ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যে ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৬ জন। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী এলাকাগুলোতে জোর কদমে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ চলছে। কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি রাজ্যের অন্তত ৩০টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশন বর্তমানে ‘গুরুতর পরিস্থিতিতে’ রয়েছে। গঙ্গা, গন্ধক, কোশি, বাগমতি ও নর্মদার মতো বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং অতীতের সর্বোচ্চ বন্যার স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা নতুন করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবনের শঙ্কা তৈরি করেছে।
প্রতিবেশী নেপালের পরিস্থিতিও অত্যন্ত ভয়াবহ। দেশটির ৭৭টি জেলার মধ্যে ৪৯টিতেই সম্ভাব্য হড়পা বান বা আকস্মিক বন্যার চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি জেলা প্রবল বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী বিক্রম তিমিলসিনহা জানান, বন্যা ও ভূমিধসে অপটিক্যাল ফাইবার ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার টেলিযোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানাং, মুসতাং, মিয়াগদি ও বাগলুং জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা জানান, রাহুগঙ্গা নদীর প্রবল স্রোতে ৪০ মেগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
তবে জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র শান্তি মাহাত জানিয়েছেন, গত মাসে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় হড়পা বানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি হলেও, বর্তমানে এই জেলা দুটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
বন্যার পাশাপাশি নেপালে তুষারধসের মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। উত্তরাঞ্চলীয় মানাং জেলায় ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হিমলুং হিমাল বেইস ক্যাম্প আকস্মিক তুষারধসে চাপা পড়েছে। এ ঘটনায় বিদেশি পর্বতারোহীদের জন্য তাঁবু খাটানোর দায়িত্বে থাকা ১০ জন নেপালি শ্রমিক নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সৌভাগ্যবশত ঘটনার সময় কোনো বিদেশি পর্বতারোহী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে হাইকিং কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
