হাসপাতালে কিশোরীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী, হত্যার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৫৪ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
প্রেমের সম্পর্কের পর মাত্র দুই মাস আগে সংসার শুরু করেছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লামিয়া আক্তার। তবে, সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো ট্র্যাজিডিতে। বিয়ের দুই মাসের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে তার। লামিয়ার লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। লামিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
লামিয়া আক্তার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে। সে একই ইউনিয়নের বড় মুসকিন্নি গ্রামে নানাবাড়ি থাকত। স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল লামিয়া।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পান তার স্বজনরা। এর পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার সোবহান শেখের ছেলে গ্যারেজ মিস্ত্রি রনি শেখের সঙ্গে লামিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ জুলাই রনির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে লামিয়া। চলতি মাসে দুই পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়। এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করে তারা।
লামিয়ার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসি অভিযোগ বলেন, “ভাড়া বাসায় ওঠার পর থেকেই শাশুড়ি ও স্বামী মিলে লামিয়াকে নির্যাতন করে আসছিল। আমার নাতনিকে গলা টিপে মেরে ফেলা হয়েছে। তার গলায় আঙুলের ছাপ এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রনির মা আমাদের ফোন করে বলে, লামিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু, রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, লামিয়ার লাশ পড়ে আছে আর রনি বা তার পরিবারের কেউ সেখানে নেই। তারা লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে।”
লামিয়াকে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত রনি শেখকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
