ঢাকা, বুধবার ৩০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫:০৪:৫২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পাঠ্যবইয়ের মান যাচাইয়ে মধ্যরাতে ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৩ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে গভীর রাতে সরেজমিনে ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজধানীর অন্তত ছয়টি ছাপাখানায় (প্রেস) আকস্মিক এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শনকালে ছাপাখানাগুলোতে প্রস্তুত করা পাঠ্যবইয়ের কাগজের পুরুত্ব, বাঁধাইয়ের মজবুত অবস্থা এবং ছাপার উজ্জ্বলতা ও মান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি নিজে বইয়ের বান্ডিল থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিষয়ের নমুনা কপি সংগ্রহ করে সার্বিক গুণমান খতিয়ে দেখেন। শিশু-কিশোরদের হাতে শতভাগ ত্রুটিমুক্ত ও মানসম্মত বই তুলে দিতে ছাপাখানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো ধরনের গাফিলতি না করার বিষয়ে তিনি কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ১ জানুয়ারি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘বই উৎসব’-এ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে প্রথম দিনেই যেন নতুন বই তুলে দেওয়া নিশ্চিত করা যায়।

এনসিটিবির সর্বশেষ তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বমোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী পরিচালিত এই বৃহৎ প্রকাশনা কার্যক্রমে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।

মুদ্রণ পরিকল্পনার বিস্তারিত বিভাজনে দেখা যায়, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য ছাপা হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি বই। এর মধ্যে শুধুমাত্র নবম শ্রেণির জন্যই সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া, সমাজে পিছিয়ে পড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থায় ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল পদ্ধতির বই প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আসন্ন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে বেশ কিছু নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের নতুন বই। এসব নতুন, পরিমার্জিত ও সংশোধিত বই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে যাবতীয় লজিস্টিক ও কারিগরি প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছে এনসিটিবি।