ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪, জুলাই ২০২৬ ২৩:২৬:০৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রফতানি বৃদ্ধিতে আরো তৎপর হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাসস

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:১৫ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাদের কর্মতৎপরতা আরো জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে আমাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে।’


তিনি বলেন, ‘যে বিশাল সুযোগ আমাদের সৃষ্টি হবে রফতানি বাণিজ্য করার, সেই সযোগটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃৃষ্টি করতে হবে।’


আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রফতানি ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে অন্য যে সুযোগগুলো আমরা পাই সেগুলো হয়তো পাব না। তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। কারণ, সেভাবেই আমরা আমাদের নীতিমালাসহ সবকিছু প্রণয়ন করেছি।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।


এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম স্বাগত ভাষণ দেন।


অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় রফতানি ট্রফি’ প্রদান করা হয়।


দল মত নির্বিশেষে ব্যবসায়িদের জন্য সবসময় তার দরজা খোলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ-বিদেশে ঘোরেন, আপনারাও খুঁজে বের করুন কোন দেশে আমাদের দেশের কোন কোন পণ্য রফতানি করা যায়।


তিনি বলেন, ‘বাজারকে খুঁজে নেওয়া এবং পণ্যটাকে তৈরি করা, সেটাও কিন্তু আপনাদের একটা দায়িত্ব। সেই ক্ষেত্রে যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে, অবশ্যই সরকার হিসাবে আমরা তা করব।’


আসন্ন নির্বাচণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘যদিও সময় এখন সীমিত। আগামীতে ইলেকশন, কী হবে বলতে পারি না! যতক্ষণ আছি ততক্ষণে যা যা প্রয়োজন সেটা করে দিতে পারব, সেইটুকু কথা দিতে পারি।’


শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী ইলেকশনে কী হবে তা বলতে পারি না। তবে আমরা যে একটা সিস্টেম করে রেখেছি, এরপর যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আর কেউ থামাতে পারবে না।’

 

রফতানি  বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অব্যাহতভাবে রপ্তানিতে উচ্চ-প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে যেখানে রফতানি আয় ছিল ১০ দশমিক পাঁচ-দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ছয়-সাত বিলিয়ন ডলার হয়েছে।


‘রপ্তানিখাতে গতিশীলতা আনয়ন ও রপ্তানি বাণিজ্যে আমাদের শিল্পকে প্রতিযোগিতা-সক্ষম করার লক্ষ্যে আমরা রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ প্রণয়ন করেছি, ’ – বলেন তিনি।


শিল্পায়ন ছাড়া কোন জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি হয় না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইপিজেড তৈরি করা হচ্ছে। সমগ্র বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। ইপিজেড ও বিসিক স্টেটগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এবং মানুষের কর্মসংস্থান হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা বাংলাদেশ যাতে উন্নত হয়- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক।