সুপার এল নিনিয়ো: বিশ্বজুড়ে চরম বিপর্যয় ও প্রাণহানির শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৯:৫৭ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার
সংগৃহীত ছবি
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে জলবায়ুর চরম অবস্থা ‘সুপার এল নিনিয়ো’। অতীত রেকর্ড ভেঙে দেওয়া এই এল নিনিয়োর প্রভাবে পুরো পৃথিবী এখন ‘চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার বিপজ্জনক অঞ্চলে’ প্রবেশ করেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের শঙ্কা অনুযায়ী, এর প্রভাবে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সাড়ে চার লাখ মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষের মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এই সুপার এল নিনিয়োর প্রভাবে একদিকে যেমন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় তীব্র খরা ও দাবানলের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য সংকটও প্রকট হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ায় এরই মধ্যে দাবানলে ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা 'ক্লাউড-সিডিং' বা কৃত্রিম বৃষ্টির বিমান ব্যবহার করছে।
খরার প্রভাবে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানামা খালে জাহাজ চলাচল ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া খরার কারণে নাইজেরিয়া, সুদান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, খরার পাশাপাশি অতিবৃষ্টি, বন্যা ও সামুদ্রিক ঝড়ের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ ব্রাজিল, পেরু এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পেরুর উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সহায়তাবাহী বিশেষ জাহাজ পাঠাচ্ছে।
এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে চীনে এ বছর অন্তত ৭টি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হানতে পারে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় অস্ট্রেলিয়া তাদের মৎস্য খাত রক্ষায় আগাম সতর্কীকরণ ও আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) আগাম সতর্কীকরণ বার্তাগুলো দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ডব্লিউএমও সতর্ক করেছে, এল নিনিয়ো যত তীব্র হবে, বিশ্বজুড়ে খরা ও বন্যার ধ্বংসলীলা ততটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সম্ভাব্য প্রাণহানি ও পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে প্রতিটি দেশকে তাদের পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও আগাম চিকিৎসা সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
