দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, সংকটাপন্ন নারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:১৪ পিএম, ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি ক্রিস্টা পাইকের। বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, তার শারীরিক অবস্থা কিংবা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৫ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টেনেসির রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কার্যকর হলে টেনেসিতে দুই শতাধিক বছরের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম নারী হিসেবে তার নাম যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
পাইকের আইনজীবীদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এর আগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার শরীরে শিরাপথ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। আইনজীবী স্পাইভির ভাষ্য অনুযায়ী, বাম হাতে একাধিকবার সূঁচ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
দুই দফা ওষুধ দেওয়ার পরও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তার আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধ করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি। পাশাপাশি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ডও স্থগিত হয়েছে।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় অনুমোদিত ও আইনসম্মত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগও ওই প্রোটোকলের অংশ ছিল।
এটি চলতি বছরে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ চেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিরাপথ স্থাপন করতে না পারায় প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স ও এপি
