ঢাকা, শনিবার ০৩, অক্টোবর ২০২৬ ৫:৫৩:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কক্সবাজারে অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৫ পিএম, ২ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে বাতিলকৃত সরকারি প্লটে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে লাল নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না করায় শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গতকাল জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে কলাতলী এলাকায় বাতিলকৃত প্লটে নির্মাণাধীন ও নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এর আগে কলাতলী পুলিশ বক্স থেকে ওশান প্যারাডাইস-সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দখলবাজ ইউসুফ আব্দুল্লাহ গংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। টিনের বেড়ার আড়ালে রাতের আঁধারে কিংবা দিনের বেলায় নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অভিযোগ ছিল, আদালতের আদেশ ও স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেখানে নির্মাণ কাজ চলছিল।

সরেজমিনে ওই এলাকায় কয়েকটি কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে আরো বেশ কিছু দোকান নির্মাণের কাজ চলছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এসব স্থাপনা বরাদ্দ দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

অভিযোগ ওঠার পর জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। সংশ্লিষ্টদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে লাল নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ করা হয়নি। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়।


জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নানেরর আগে জানিয়েছিলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
কলাতলীর বাতিল প্লটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ঘটনায় স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের দাবি, কলাতলী মোড়, সৈকতসংলগ্ন এলাকা এবং বীচের বিভিন্ন পয়েন্টে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ গড়ে ওঠা ঝুপড়ি, অস্থায়ী দোকান ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হোক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকত ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটের আশপাশে অনুমোদনহীন ঝুপড়ি ও দোকান গড়ে ওঠায় পর্যটন পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি জায়গা দখলের প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে এসব স্থাপনার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে সরকারি জমি, বাতিল বরাদ্দ ও ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু বাতিলকৃত প্লটে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসন সরকারি জমি রক্ষায় যে অবস্থান নিয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে:এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

এদিকে, আদালতের আদেশ, সরকারি জমির মালিকানা ও বরাদ্দের শর্ত অমান্য করে কেউ নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের পেছনে কারা অর্থায়ন বা সহযোগিতা করছে, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।