বাজেট ২০১৫-১৬ : সাত বছরে নারীদের জন্য বরাদ্দ তিনগুণ বেড়েছে
প্রকাশিত : ১২:৪২ পিএম, ১১ জুন ২০১৫ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:৪২ পিএম, ১১ জুন ২০১৫ বৃহস্পতিবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, ঢাকা : জাতীয় বাজেটে জেন্ডার বাজেট প্রণয়নের সাত বছরে নারীর জন্য বরাদ্দ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি হয়েছে। প্রথমবারের মতো ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রণিত জেন্ডার বাজেটে নারীর হিস্যা ধরা হয় ২৭ হাজার ২শ’ ৪৮ কোটি টাকা।
গত ৪ জুন প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। জেন্ডার বাজেট প্রণয়নের প্রথম বছরের তুলনায় এটি প্রায় তিন গুণ।
জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন ২০১৫-১৬’তে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরে মোট জাতীয় বাজেটের ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ নারীর জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে মোট বরাদ্দ বেড়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত জেন্ডার বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের। কমেছে ২২টি মন্ত্রণালয়ের।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় বলেন, উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নারীকে সম্পৃক্ত করার ফলে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি’ অর্জনসহ ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উপনীত হওয়ার পথকে সহজতর করবে।
জেন্ডার বাজেট সংক্রান্ত তথ্য সারণীতে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথম বারের মতো নারী উন্নয়নে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করা হয়। এবছর চারটি মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার বাজেটের আওতায় আনা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১০টি মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার বাজেটের আওতায় এনে ৩৪ হাজার ২’শ ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১১-১২ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের সংখা ২০ টি করে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় ৪২ হাজার ১শ’ ৫৪ কোটি। জেন্ডার বাজেট প্রণয়ণের চতুর্থ বছরে এসে ২০১২-১৩ অর্থবছরে জেন্ডার বাজেটে নারীর হিস্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়। এতে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করে মোট ৫৪ হাজার ৩শ’ ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
জাতীয় বাজেটে জেন্ডার বাজেট প্রণয়নের পঞ্চম বর্ষে এসে আরো ১৫টি নতুন মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করে মোট ৪০টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নারীর হিস্যা নির্ধারণ করা হয় ৫৯ হাজার ৭’শ ৫৬ কোটি টাকা। যা মোট জাতীয় বাজেটের ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৪০টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট অনুযায়ী নারীর হিস্যা ছিলো ৬৪ হাজার ৮৭ কোটি টাকা।
আগামী আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনে জাতীয় প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর অংশগ্রহণকে সুদৃঢ় করতে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক. নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা, দুই. উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজার ও আয়বর্ধক কাজে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ এবং তিন. সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে নারীর সুযোগ বৃদ্ধি। এ তিনটি বিষয়ের প্রেক্ষিতে জেন্ডার বাজেটে অন্তর্ভুক্ত মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করা হয়।
উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজার ও আয়বর্ধক কাজে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী নয়টি মন্ত্রণালয়ে নারীর জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে রয়েছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে নারীর সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত ২৪ টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বাজেট প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ , গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয় , তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভ’মি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক ও পরিবহন বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১.০৬.২০১৫
