ঢাকা, বুধবার ০৭, অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫২:২৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অনলাইনে প্রেমের ফাঁদ, ব্রিটেনে নতুন বাংলাদেশিদের আইনি ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:০৬ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যে নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম বয়সী তরুণীদের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে গুরুতর আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ও কেয়ার কর্মীদের কেউ কেউ।

বিশেষ করে অনলাইনে বয়স ও পরিচয় সম্পর্কে ভুল তথ্য, যৌন কথোপকথন এবং পরবর্তীতে সরাসরি সাক্ষাৎ করে গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব গ্রেপ্তারের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও ঘটনার বর্ণনা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি নতুন অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, কম বয়সী তরুণীদের সাথে দেখা করতে গেলে এসব তরুণীর অভিভাবকরা ধরে ফেলেন এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।


যুক্তরাজ্যে যৌন অপরাধসংক্রান্ত আইন অত্যন্ত কঠোর। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন সম্মতির সাধারণ বয়স ১৬ বছর। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ১৬ বছরের নিচে কারও সঙ্গে যৌন যোগাযোগ বা যৌন উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা নিরাপদ বা বৈধ।


অনলাইনে পরিচয় গোপন করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের বেশ কিছু ঘটনা যুক্তরাজ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানায়, রুহেল মিয়া নামে ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি স্ন্যাপচ্যাটে-এ ১৫ বছর বয়সী কিশোরের পরিচয় ব্যবহার করে তিন কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তিনি ১০ বছরের কারাদণ্ড পান।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারে কিরখান নামের এক ব্যক্তি ভুয়া কিশোর পরিচয়ে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে পুলিশ জানায়। তিনি ৩০টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড পান।

ইউকের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এবং ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিলের (এনপিসিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে চাইল্ড সেক্সুয়াল এভিউজ সম্পর্কিত অভিযোগ প্রায় এক লাখ পৌঁছায়। একই তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পুলিশ প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার এবং প্রায় ১,২০০ শিশুকে পুলিশি হেফাজতে আনছে।

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো ব্যক্তি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগ করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে। সেক্সুয়াল অফেন্স এ‍্যাক্ট ২০০৩-এর সেকশন ১৫-এর ‘এ’তেও শিশুর সঙ্গে যৌন যোগাযোগের বিষয়টি অপরাধ হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধে শুধু সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক নয়, অনলাইন যোগাযোগও তদন্তের অংশ হতে পারে।

অর্থাৎ, ‘শুধু চ্যাট করেছি’, ‘শুধু ছবি পাঠিয়েছি’ কিংবা ‘শুধু দেখা করার কথা হয়েছিল’ এই ধরনের ব্যাখ্যা সব পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে আইনি দায় থেকে মুক্তি দেয় না।

অনলাইনে কারও সঙ্গে যোগাযোগের পর যৌন উদ্দেশ্যে তাকে দেখা করার ব্যবস্থা করাও যুক্তরাজ্যের আইনে গুরুতর অপরাধ।

কোনো যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে বিষয়টি শুধু আদালতের শাস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন, সাজা, ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যৎ অভিবাসন অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। কিছু পরিস্থিতিতে একজন বিদেশি নাগরিকের ইউকেতে প্রবেশ বা থাকার অনুমতিও প্রত্যাখ্যান বা বাতিল হতে পারে।

বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা অনেক বাংলাদেশির জন্য দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারকে সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য তারা বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে যুক্তরাজ্যে আসেন। কিন্তু অনলাইনে একটি ভুল সিদ্ধান্ত সেই স্বপ্নের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। একটি অভিযোগের পর তদন্ত, আদালতের মামলা, চাকরিতে সমস্যা, মানসিক চাপ এবং দোষী সাব্যস্ত হলে অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।