ঢাকা, বুধবার ০৭, অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪২:১২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০১ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২ টার পর থেকে পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজার জাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।


প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করার পাশাপাশি অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার পদ্মা মেঘনায় ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময় ডিম ছাড়তে নদীর নির্দিষ্ট এলাকায় আসে মা ইলিশ। নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাচুর্য বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আর এ কারণেই ইলিশের সঙ্গে চাঁদপুরের সম্পর্ক যেন আরও গভীর। নদী ও ইলিশের এই ঐতিহ্যের কারণে চাঁদপুর পরিচিতি পেয়েছে ‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে।

আরও পড়ুন

পদ্মায় ধরা ১৭ কেজির পাঙাশ, দাম উঠল যত

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই নদী থেকে নৌকা ও জাল তীরে তুলে নিয়েছেন চাঁদপুরের ৫০ হাজারের বেশি জেলে। নদীতে যাওয়ার বদলে তীরে উঠছে মাছ ধরার নৌকা। গুটিয়ে রাখা হচ্ছে জাল। কেউ নৌকার মেরামত করছেন, আবার কেউ জাল শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন।


এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে চাঁদপুর জেলার নিবন্ধিত ৪১ হাজার ৩৯০টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।


তবে জেলেদের দাবি, ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বিকল্প আয়ের সুযোগ থাকে না। তাই খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা চান জেলেরা।


তসর নামে চাঁদপুরের এক জেলে বলেন, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার যে খাদ্য সহায়তা দেয়, তা কিছুটা উপকার করে। তবে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন।


নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে যেতে না পারলেও থেমে থাকে না সংসারের খরচ। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, নৌকা ও জাল মেরামত— সব মিলিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা। এর সঙ্গে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও থাকে বলে জানান বেশ কয়েকজন জেলে।


চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ৪১ হাজার ৩৯০ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কেউ নদীতে নামলে ছাড় দেয়া হবে না এবং কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে পারলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।


তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। নদীতে নজরদারি বাড়ানো হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চাঁদপুর নৌথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌপুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রস্তুত প্রশাসনও। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে থাকবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও নৌবাহিনী নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে। বাড়ানো হবে নদীতে নজরদারি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।


তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময়টুকু সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলেদের জীবন-জীবিকাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।