ঢাকা, বুধবার ০৭, অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৯:১২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

`দেনমোহরের জন্য স্ত্রীকে হয়রানি করলে ক্ষতিপূরণ দিবে স্বামী`

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১৫ এএম, ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

স্ত্রীর দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না বলে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ নামের একটি দেওয়ানি রিভিশন মামলার রায়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্বামীর ওপর স্ত্রীর পাওনা এবং এটি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। স্ত্রী দাবি করলে বিলম্বিত দেনমোহরও তাৎক্ষণিকভাবে দিতে হবে। দ্রুত দেনমোহর আদায়ের জন্য স্ত্রীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হলে এবং সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী যদি তা দিতে বিলম্ব করে বা হয়রানি করে, সেক্ষেত্রে বিচারিক আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন।


ইসলামি আইন ও পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়, দেনমোহর স্ত্রীর একটি আর্থিক ও স্বতন্ত্র অধিকার। এটি বিয়ের বাধ্যবাধকতা এবং স্বামী তা ফেরত দাবি করতে পারেন না। একমাত্র স্ত্রী স্বেচ্ছায় তা মওকুফ করলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সেই মওকুফ হতে হবে সচেতন, দ্ব্যর্থহীন ও স্বাধীনভাবে; জবরদস্তি বা প্রতারণা করে আদায় করা যাবে না। আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দেনমোহরের কোনো অংশ মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার হাইকোর্টের নেই।

২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে। পরে স্বামীর যৌতুক দাবির জেরে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। স্ত্রী দেনমোহর ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করলে ২০২২ সালে আদালত একতরফা ডিক্রি দেন। রায়ে স্ত্রীকে ১৮ লাখ টাকা দেনমোহর, তিন মাসের ভরণপোষণ বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং কন্যাশিশুর বকেয়া ভরণপোষণ বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী আপিল করে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। তিনি ব্যবসা হারিয়ে আর্থিক সংকটের কথা বলে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান। কিন্তু হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে বকেয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণের সব টাকা পরিশোধ করে ডিক্রি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

স্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, এই রায়ের ফলে দেনমোহর নিয়ে স্ত্রীকে হয়রানি করলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে হয়রানি ও মামলার বদলে মানুষ মীমাংসার দিকে বেশি আগ্রহী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।