বছরে ৫০০ কোটির বেশি ঘাটতি, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ডাক বিভাগ
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:২১ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
একসময় মানুষের খবর আদান-প্রদানের প্রধান ভরসা ছিল ডাক বিভাগ। প্রিয়জনের চিঠি, চাকরির নিয়োগপত্র, পরীক্ষার ফল, মানি অর্ডারে পাঠানো সংসার খরচ—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ডাকঘর। গ্রামের পর গ্রামে ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা ছিল পরিচিত শব্দ। সময় বদলেছে। চিঠির জায়গা নিয়েছে মুঠোফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পণ্য পরিবহনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ডাক বিভাগ এখন আর্থিক সংকট ও গ্রাহক হারানোর চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। অথচ সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক এক সংবাদ প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক বিভাগের আয় ছিল প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা, বিপরীতে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় ৫১৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় ছিল প্রায় ২১৯ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আয় বাড়লেও ব্যয়ের তুলনায় তা এখনো অনেক কম।
এর আগে ২০২৪ সালের জুনে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ডাক বিভাগ প্রতিবছর প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত এসব হিসাবের মধ্যে অর্থবছর ও হিসাবের পরিধির পার্থক্য রয়েছে। তাই হালনাগাদ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ছাড়া লোকসানের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আয় ও ব্যয়ের বড় ব্যবধান যে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক টেকসই সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, তা স্পষ্ট।
ব্যয় বাড়ছে, আয় বাড়ছে না সমানতালে
ডাক বিভাগের আর্থিক সংকটের অন্যতম বড় কারণ পরিচালন ব্যয়ের চাপ। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ব্যয়ের বড় অংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও আনুতোষিক পরিশোধে চলে যায়। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গ্রাহকসেবা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে প্রচলিত ডাকসেবার গ্রাহক কমছে। একসময় ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক যোগাযোগে চিঠি ছিল অপরিহার্য। এখন অধিকাংশ জরুরি বার্তা ডিজিটাল মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। এতে সাধারণ চিঠি, নিবন্ধিত ডাক ও অন্যান্য প্রচলিত সেবা থেকে আয় কমার চাপ তৈরি হয়েছে।
দেশ রূপান্তরের এক প্রতিবেদনে ডাক বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় সার্কেলের তিন বছরের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সার্কেলটির আয় ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বিপরীতে ব্যয় ছিল প্রায় ১৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই অঞ্চলে প্রতি এক টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ টাকা ৬৩ পয়সা। এটি পুরো দেশের হিসাব নয়; উত্তরাঞ্চলীয় সার্কেলের আর্থিক পরিস্থিতির চিত্র।
গ্রাহক কেন বেসরকারি কুরিয়ারে ঝুঁকছেন?
ডাক বিভাগের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক পণ্য পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে সেবার গতি, বাড়ি থেকে পণ্য সংগ্রহ, নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা, সহজে চালান অনুসরণ এবং গ্রাহকসেবার মতো বিষয়।
অনেক গ্রাহকের কাছে শুধু কম খরচে পণ্য পাঠানোই যথেষ্ট নয়। পণ্য কোথায় আছে, কখন পৌঁছাবে এবং বিলম্ব হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ডাক বিভাগ প্রযুক্তিগত সেবা চালুর উদ্যোগ নিলেও সেগুলো কতটা সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও সর্বত্র কার্যকর, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
এখানে প্রতিযোগিতার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। দুর্গম অঞ্চলে কম খরচে সেবা দেওয়া বা অলাভজনক রুটে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো শুধু মুনাফার ভিত্তিতে ডাক বিভাগকে বিচার করা যাবে না। তবে সামাজিক দায়িত্ব পালনের খরচ কত, বাণিজ্যিক কার্যক্রমে লোকসান কত এবং কোন খাতে অদক্ষতা রয়েছে—এসব আলাদা করে হিসাব করা জরুরি।
দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার অভিযোগ
আর্থিক সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে ডাক বিভাগের সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৫ কোটির বেশি টাকা ক্ষতি ও অপচয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করে। একই বছর বিভিন্ন ডাকঘরে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার বিচারিক নিষ্পত্তি ও নিরীক্ষার ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের ঘটনা গ্রাহকের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, ডাক জীবনবিমা ও অন্যান্য আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাই নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা, নিয়মিত নিরীক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে
সংকটের মধ্যেও ডাক বিভাগের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক। ডাক বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ৮ হাজার ৫০০-এর বেশি পোস্ট অফিসের কথা উল্লেখ রয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই অবকাঠামো বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই নেটওয়ার্ককে আধুনিক ব্যবসার উপযোগী করে তুলতে পারলে ডাক বিভাগ আবার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখতে পারে। সে জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ বিশেষভাবে জরুরি।
১. ই-কমার্স ও পণ্য পরিবহনে জোর দেওয়া: অনলাইন ব্যবসা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ উৎপাদকদের জন্য সাশ্রয়ী পণ্য পরিবহন সেবা চালু রাখতে হবে। পণ্য সংগ্রহ থেকে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সময় ও খরচ কমাতে হবে। ফেরত পণ্য ব্যবস্থাপনা, পণ্যের নিরাপত্তা এবং বিক্রেতার পাওনা নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন।
২. প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো: অনলাইনে বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, বারকোডভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং পণ্য পৌঁছানোর তাৎক্ষণিক বার্তা বাধ্যতামূলক সেবার অংশ করা যেতে পারে। গ্রাহককে যেন প্রতিবার ডাকঘরে গিয়ে খোঁজ নিতে না হয়, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩. অলস সম্পদের ব্যবহার: দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ডাক বিভাগের জমি, ভবন, গুদাম ও পরিবহন অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। যেসব ডাকঘরে গ্রাহক কম, সেখানে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বহুমুখী সেবা চালু করা যেতে পারে। তবে সরকারি সম্পদ ইজারা বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ব্যয় ও জনবল ব্যবস্থাপনায় সংস্কার: শুধু কর্মী কমিয়ে খরচ কমানো সমাধান নয়। কোন কাজের জন্য কত জনবল প্রয়োজন, কোথায় শূন্য পদ রয়েছে, কোথায় কাজের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং কোন সেবায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে—এসব বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন বাড়ানো জরুরি।
৫. সেবার মানের জবাবদিহি: চিঠি ও পার্সেল পৌঁছাতে কত সময় লাগছে, কতটি পণ্য বিলম্বিত হচ্ছে, অভিযোগ কত দিনে নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং কোন অঞ্চলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বেশি—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত। এতে গ্রাহক যেমন সেবার মান বুঝতে পারবেন, তেমনি কর্তৃপক্ষও দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারবে।
৬. আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ: ডাক বিভাগের আর্থিক সেবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক বিভাগ পেয়েছে প্রায় ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ ধরনের অংশীদারত্ব থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক সেবায় স্বচ্ছতা, গ্রাহক সুরক্ষা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
৭. আধুনিক আইন ও সমন্বিত নেটওয়ার্ক: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা জানায় সরকার। এতে ডিজিটাল ডাকটিকিট, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ই-কমার্সের জন্য সমন্বিত পণ্য অনুসরণব্যবস্থার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর করতে হলে প্রয়োজনীয় বিধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জনবল এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
আধুনিকায়নের উদ্যোগ, বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
ডাক বিভাগকে আধুনিক করার উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসার পণ্য ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে ১৪টি পণ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বাছাই, পরিবহন ও বিতরণের কাজ করা সম্ভব। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস ও ডাকসেবা সংগ্রহকেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।
গত সেপ্টেম্বরেও ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের সেবার পরিধি বাড়তে পারে। তবে অবকাঠামো নির্মাণ বা যন্ত্রপাতি কেনাই সাফল্যের মাপকাঠি নয়; সেগুলো কতটা ব্যবহার হচ্ছে, গ্রাহক কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং আয় কতটা বাড়ছে—তার হিসাবও প্রকাশ করতে হবে।
ভর্তুকি নয়, প্রয়োজন টেকসই সেবাব্যবস্থা
ডাক বিভাগকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ নিশ্চিত করা, সরকারি নথি পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী সেবা বজায় রাখার সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। এসব সেবার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় হলে তার যৌক্তিকতা আছে।
কিন্তু সেই অর্থ ব্যয়ের বিনিময়ে জনগণ কী সেবা পাচ্ছে, কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব আয় বাড়াতে কী করছে—তার স্পষ্ট হিসাব থাকা প্রয়োজন। সামাজিক সেবার ব্যয় ও বাণিজ্যিক লোকসান আলাদা করে দেখাতে পারলে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি বোঝা সহজ হবে।
বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য সম্ভাবনার কথা বলছে। বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সামনেও সম্ভাবনা রয়েছে—বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, পরিচিত ব্র্যান্ড, আর্থিক সেবার অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এখন প্রয়োজন এসব সম্পদকে কাজে লাগানো, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের অদক্ষতা দূর করা।
ডাক বিভাগকে বাঁচানোর অর্থ শুধু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ ধরে রাখাও। তবে সেই দায়িত্ব পালনের নামে অনির্দিষ্টকাল লোকসান বহন নয়—প্রয়োজন স্বচ্ছ হিসাব, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত সেবা এবং ফলাফলভিত্তিক সংস্কার।
