শান্তিতে নোবেল পেলেন অধিকারকর্মী নাভানেথেম পিল্লাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:৪৮ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
শান্তিতে নোবেল পেলেন অধিকারকর্মী নাভানেথেম পিল্লাই
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তামিল বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মী নাভানেথেম পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে।
নাভানেথেম পিল্লাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন পিল্লাই। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর ভূমিকা যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংঘাতের সময়ে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা জোরদার করার ক্ষেত্রেও দক্ষিণ আফ্রিকার তামিল বংশোদ্ভূত এই আইনজীবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
২০২৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পায় জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি। ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিলিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ। ২০২১ সালে যৌথভাবে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কারটি দেওয়া হয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি তিনবার, ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে, এ পুরস্কার পেয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর পুরস্কারটি পেয়েছে দুইবার, ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
