ঢাকা, শনিবার ১০, অক্টোবর ২০২৬ ৫:২৭:২৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: চট্টগ্রামে অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:১৫ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের অবস্থান শনাক্তে সহায়তা মেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। নিজের বাড়ি না থাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

কক্সবাজার থেকে ফেরার পর নিখোঁজ

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরে তাজমিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে তাকে নামতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও তার চলাচলের দৃশ্য পাওয়া গেছে।

তবে হোটেলের সামনে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং কীভাবে লালমাইয়ের ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তার শেষ সময়ের চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগও উদ্ধার করা হয়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত পরীক্ষা করে ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর সে আর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাজমিন তার বাবাকে মুঠোফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। সেই লোকেশন এবং তার শেষ সময়ের অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিন প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ধরে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। এ দীর্ঘ সময়ে সে কোথায় যেত এবং কার সঙ্গে মেলামেশা করত, সে বিষয়ে তার বাবা-মা কতটা অবগত ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তার স্কুলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা এবং তাজমিনের শেষ সময়ের চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ।