ঢাকা, রবিবার ১১, অক্টোবর ২০২৬ ৫:১৯:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নেত্রকোনায় ৪০ নারী পেলেন প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৩ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

‘বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর আজ একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। মেশিনটি আমার কাছে নতুন করে বাঁচার সুযোগ। এখন ঘরে বসে সেলাই করে কিছু আয় করতে পারব। আশা করছি, আমার সন্তানকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। এই সহযোগিতার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’ বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে এভাবেই বলছিলেন বসুন্ধরার সহায়তায় স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নপূরণনেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মাহামুদা আক্তার।

 

একই অনুষ্ঠানে তাঁর মতো ২০ জন অসচ্ছল নারী প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। অন্যদিকে সদর উপজেলার ২০ জন নারীও তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে সেলাই মেশিন পেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

 

সম্প্রতি বারহাট্টা উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই বাংলার প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন প্রধান অতিথি হয়ে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন। আরো অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ এস এম গোলাম হোসাইন, ওসি (তদন্ত)  শফিকুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি শামসউদ্দীন আকন্দ বাবুল, ধর্মপাশা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ, অখিল চন্দ্র পাল, মো. নুরুল আমিন, ফেরদৌস আহম্মদ, মোখলেছুর রহমান প্রমুখ।

 

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘সেলাই মেশিন দেওয়ার পেছনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য একটিই, যেসব নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, স্বাবলম্বী হতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেলাই মেশিন কিনতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে সেলাই মেশিন বিতরণ করছে। আমরা চাই, এই মেশিন একজন নারীর হাতে শুধু একটি যন্ত্র হিসেবে না থাকুক, এটি হোক তাঁর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি পথ।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ‘অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সেলাই মেশিন বিতরণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের হাতে শুধু একটি মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই কাজ করে আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত।’

 

সদর উপজেলার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের কার্যালয়ে ২০ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও প্রাবন্ধিক হায়দার জাহান চৌধুরী, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি চক্রবর্তী, বসুন্ধরা শুভসংঘ নেত্রকোনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি আলপনা বেগম, নিউজ২৪-এর প্রতিনিধি সোহান আহমেদ কাকন, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি এবাদ হোসেন, শুভসংঘের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম টনি প্রমুখ।

 

প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন নিতে আসা মিতু আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা নেই। মা বিভিন্ন টেইলার্সে ঘুরে সেলাইয়ের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই সংসার চলে। আমি নেত্রকোনা সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি। বাড়িতে সেলাই মেশিন থাকলে মা-মেয়ে দুজনেই কাজ করে ভালো আয় করতে পারব। বসুন্ধরার সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন আমাদের সচ্ছলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ। অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই বসুন্ধরা গ্রুপকে।’

 

ইতি রানী দাসের স্বামী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে স্বল্প বেতনে কাজ করেন। তাঁর উপার্জন দিয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন। তাই স্বামীর আয়ের পাশাপাশি নিজেরও কিছু করার তাগিদ ছিল ইতির। বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া মেশিনটি এখন তাঁর কাছে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।