মার্কিন কংগ্রেসম্যান ইলহানের ফোন জব্দ, স্বজনদের বিরুদ্ধে সমনজারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:০৭ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি গ্র্যান্ড জুরি সমন জারি করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মিনেসোটার অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গঠিত গ্র্যান্ড জুরির কাছে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এই সমনগুলো পাঠানো হয়েছে। এর আগে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে অভিযান চালান ফেডারেল এজেন্টরা।
ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলা এই তদন্তের পরিধি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র ঘিরে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস অ্যাটর্নি জিনিন পিরো ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইলহান ওমারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি তদন্ত চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এই আইনপ্রণেতার আর্থিক হিসাব-নিকাশ বা ডিসক্লোজার সংক্রান্ত বিষয়গুলোও তার কার্যালয় খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, “যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে তার আইনগত বিচার করা হবে।”
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে (যা হাউস ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে) প্রার্থীর বাড়িতে এমন অভিযান পরিচালনা করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ডেমোক্র্যাট এই আইনপ্রণেতাকে নিশানা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইলহান ওমর এই তল্লাশিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনের এবং ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “গত ১০ বছর ধরে ভিত্তিহীন মিথ্যাচার ও মানহানিকর প্রচারণা চালিয়ে আমাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের এই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ রূপ এটি। আমি মুখ বন্ধ রাখব না।”
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলহান ওমর পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের ঠিক তিন সপ্তাহ আগে এমন তদন্তমূলক পদক্ষেপের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
