বাজারে স্বস্তি নেই, চড়া দামে সবজি-চাল-ডাল
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৩৮ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। শুক্রবারের ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বাড়তি দামের চাপে পড়ছেন ক্রেতারা। চাল, ডাল, সবজি, মুরগি ও মাংস—প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে সবজির বাজারে চড়া দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সংসার সামলানো কঠিন করে তুলেছে।
রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, খিলাগাঁও, পরীবাগ, সেগুনবাগিচা বাজারে বাজারদর পর্যবেক্ষণে কয়েকটি পণ্যের দাম বেশি দেখা গেছে। সেখানে আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৬২ টাকা। আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৫০ টাকা।
অন্যদিকে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ১৫ অক্টোবরের ঢাকা মহানগরীর পাইকারি বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা, মাঝারি চাল ৪৯ থেকে ৫৩ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩৬ থেকে ৪৭ টাকা, আলু ১৪ থেকে ২০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৫২ থেকে ১৬৫ টাকা দরে ছিল। খুচরা বাজারের সঙ্গে এসব দামের পার্থক্য পণ্য পরিবহন, বাছাই, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ব্যয়ের বিষয়টি সামনে আনে। তবে শুধু এই পার্থক্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের মুনাফা বা কারসাজির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায় না।
কমছে না সংসারের খরচ
বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। যাদের মাসিক আয় নির্দিষ্ট, তাদের পক্ষে বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। ফলে অনেক পরিবারকে মাছ-মাংসের পরিমাণ কমানো, পছন্দের সবজি বাদ দেওয়া কিংবা কেনাকাটার তালিকা ছোট করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চাল, ডাল, তেল ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেলে পরিবারের অন্যান্য ব্যয়েও কাটছাঁট করতে হয়। বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা ও যাতায়াতের খরচ মিটিয়ে খাবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
বাজার তদারকি কোথায়?
নিত্যপণ্যের বাজারে দাম ওঠানামা স্বাভাবিক। উৎপাদন, সরবরাহ, পরিবহনব্যয় ও মৌসুমি প্রাপ্যতা দামের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু এসব কারণের আড়ালে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা জরুরি।
কৃষিপণ্যের উৎপাদক পর্যায়ের দাম, পাইকারি দর এবং খুচরা বিক্রয়মূল্যের মধ্যে কতটা ব্যবধান রয়েছে, তা নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কার্যকর তদারকি থাকতে হবে।
বাজারে স্বস্তি ফেরাতে শুধু অভিযান পরিচালনা যথেষ্ট নয়; সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিক্রয়ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।
দিন শেষে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়—আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও যদি তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তবে সেই বাজারে স্বস্তি ফেরে না।
