ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৪:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

সকালে উঠে নাশতা তৈরি করি, বাসন ধুই: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৫ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, দৈনন্দিন ঘরের কাজ ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতির কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় তার প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় ব্যয় হতে পারে। ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও সকালে নাশতা তৈরি করা, বাসন ধোয়া ও সাজগোজ করতে হয় তাকে।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে নিজের দৈনন্দিন রুটিনের কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন তাকাইচি। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।


তাকাইচি বলেন, ‘সকালে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, তারপর বাসন ধুই। এর পাশাপাশি সাজগোজও করতে হয়।’ এসব কাজের জন্য পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় তাঁর তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় লাগে বলে মনে করেন তিনি।


নিজেকে কাজপাগল হিসেবে পরিচয় দেওয়া তাকাইচি এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। এমনকি কখনো কখনো রাত তিনটায়ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করেন তিনি।


জাপানে নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বেশ কঠোর। দেশটির রাজনীতিতেও দীর্ঘদিন ধরে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কম। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬৮টিতে নারী প্রার্থীরা জয়ী হন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রীদের সাধারণত পার্লামেন্টের অধিবেশনে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত পার্লামেন্টে থাকা তাদের জন্য অস্বাভাবিক নয়। এ সময় বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া কিংবা অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে হয়।


তাকাইচির সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য প্রশ্ন তোলেন। জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা এ প্রসঙ্গে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন।


তিনি জানান, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্টের অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। তুলনায় যুক্তরাজ্যে এ সংখ্যা ছিল ৫০ দিন এবং জার্মানিতে ১৩ দিন।


আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও ফুজিতা বলেন, ‘আমাদের নেতাকে এত দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টে আটকে থাকতে হয়, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’


কর্মব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, কাজের নথি ও পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর-সংক্রান্ত কাগজপত্র গভীর রাত পর্যন্ত পড়তে পড়তে কখনো কখনো ভোর হয়ে যায়।


বুধবার পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে নিয়ে আসা নথির এই স্তূপগুলো মধ্যরাতে পড়তে আমার ভালোই লাগে।’


তবে কাজের চাপে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা কঠিন বলেও স্বীকার করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ কিংবা এ নিয়ে আমার বৃহত্তর পরিকল্পনা সম্পর্কে ঠান্ডা মাথায় গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য সময় বের করা কঠিন।’