পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার মার্কিন সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:৪০ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার
সংগৃহীত ছবি
অধিকৃত পশ্চিম তীরে তীরে গিয়ে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন হেইডি লেভিন নামে এক মার্কিন ফটোসাংবাদিক। এই হামলার শিকার হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও।
হামলায় লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, হামলার ঘটনার বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে যেসব ছবি তিনি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’।
ইসরায়েলকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ আহ্বান জানিয়ে রুবিও বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ইসরায়েলের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রুবিও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাকে ও কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে মারধর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই এলাকায় ঢুকে লেভিনকে মারধর করে এবং তার পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সরঞ্জাম চুরি করে।
লেভিন বলেন, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা আমাকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারছিলেন। এ সময় আমি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।
তার ভাষ্যমতে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না, কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছিল।
৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মেয়ে জানান, লেভিনের একটি আঙুল প্রায় হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙেছে এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।
এদিকে রুবিওর পাশাপাশি এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাকাবি লিখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’
তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তার এমন অবস্থান প্রকাশের পর ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাকাবিও তার বক্তব্যে সরাসরি তাদের বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।
