ঢাকা, বুধবার ২১, অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২২:১০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বাল্যবিয়ের শিকার দেশের অর্ধেক মেয়ে: ইউনিসেফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৩ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। একই বয়সী নারীদের ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায়, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।


বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের সুরক্ষায় তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। এগুলো হলো, বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।


বাংলাদেশের ২০২৫ সালের একাধিক সূচকভিত্তিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগেই। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইউনিসেফ।

সফরকালে ঢাকার কড়াইল বস্তির বিভিন্ন পরিবার এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।


রাসেল জানান, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেন।


তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের পাশাপাশি পুরো সমাজ ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।


ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।


ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।


রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। তাদের যেন শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব শিশু এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বকে বিনিয়োগ করতে হবে।


সূত্র: ইউনিসেফ