বাজারে ক্রেতা কম, তবু দামে স্বস্তি নেই
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন স্বস্তি নেই। চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে। অন্যদিকে শীতকালীন সবজির আগাম সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর নিত্যদিনের বাজারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বাজার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদনে রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ক্রেতা কমলেও চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেনি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ আগের মতো থাকায় বিক্রি কমলেও পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ সীমিত।
চাল-ডালের বাজারে চাপ
বাজারে চালের দাম মান ও ধরনভেদে ভিন্ন। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং সরু বা মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। নাজিরশাইল চালের দাম আরও বেশি হতে পারে।
ডালের বাজারেও রয়েছে দামের পার্থক্য। মোটা মসুর ডাল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ভালো মানের সরু মসুর ডাল কিনতে ক্রেতাদের বেশি খরচ করতে হচ্ছে। ছোলার দামও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শীতের আগাম সবজিতে বাড়তি খরচ
শীতের সবজি পুরোপুরি বাজারে আসার আগেই কিছু সবজির দাম বেশি থাকছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল ও কারওয়ান বাজারের চিত্র তুলে ধরে শিমের দাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। তবে এগুলো নির্দিষ্ট সময় ও বাজারের সংগৃহীত দাম; আজকের সব বাজারের দর হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা যাবে না।
ডিম-মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি
সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে ডিমের দাম কিছুটা কমার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফার্মের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বাজার, মান ও বিক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
তদারকি বাড়ানোর দাবি
নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের প্রধান প্রত্যাশা—দামের স্থিতিশীলতা, সঠিক ওজন এবং পণ্যের মান অনুযায়ী ন্যায্য মূল্য। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের প্রকৃত সরেজমিন চিত্র তুলে ধরতে নির্দিষ্ট বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, শীতকালীন সবজি, ডিম ও মুরগির দাম সংগ্রহ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্তত দুজন ক্রেতা ও দুজন বিক্রেতার বক্তব্য নিলে বোঝা যাবে, কোন পণ্যের দাম বেড়েছে, কোনটি কমেছে এবং কেন।
