ঢাকা, শনিবার ২৪, অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৭:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কমছে না পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:১৭ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কমছেইনা পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম। পণ্যভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে এসবের দাম। এরই মাঝে হঠাৎ বেড়েছে আদা, রসুন ও লেবুর দাম। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, নজরদারি না থাকায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো বাড়াচ্ছেন এসব নিত্যপণ্যের দাম।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে।


বাজারঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চীনা আদা কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদা বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। একই সঙ্গে চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং দেশি রসুনের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাতভেদে হালিপ্রতি লেবুর দামও ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়।


বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দল ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুমুখি ৭০ টাকা, কাঁকড়ল, বেগুন ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওযা যাচ্ছে। আর পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে শীতের আগাম সবজি শিমের দাম কমলেও এখনো তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিমের কেজি ১৬০ টাকা পর্যন্ত ছিল। আর আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর প্রতি কেজি টম্যাটো কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়েত বলেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে। তিনি বলেন, এখন নতুন করে আর সবজির দাম বাড়বে না।


এদিকে, আটা ময়দার দাম বাড়ছেই। বাজারে খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ১২০ টাকা কেজি পোলাও চালের দাম এক লাফে মানভেদে বেড়ে ১৯০ থেকে ২৩০ টাকা হওয়ায় হতবাক ক্রেতারা। বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ ও প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। আর খোলা ময়দা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ও ৬ শতাংশ বেড়ে তা ৭০ টাকা এবং ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডাল ও মসলার মতো মৌলিক পণ্যগুলো এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।


অন্যদিকে ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি, মাছ ও অন্যান্য মাংসের দাম রয়েছে চড়া।


সপ্তাহ দুয়েক আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।


মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, তেলাপিয়া মাঝারি ও বড় সাইজের কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।