সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
পিরোজপুর প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:১৮ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন হয়েছে গভীর রাতে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের কাউকে পাশে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। এর আগে মরদেহ দাফন নিয়ে বাধা ও উত্তেজনার মুখে পড়তে হয় স্বজনদের। পুলিশের সহায়তায় মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহ গ্রামে আনার পর কবর খোঁড়া হলেও একপর্যায়ে সেই কবর ভরাট করে দেওয়া হয়। পরে পরিবারের নারীরা আবার কবর খুঁড়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন।
মানিক পশারীর বোন বলেন, টুঙ্গিপাড়া থেকে মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর ঝামেলা শুরু হয়। তাঁরা একবার কবর খুঁড়লেও লোকজন সেটি আবার ভরাট করে দেয়। পরে আবার কবর খুঁড়ে পুলিশ মরদেহ নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরাই দাফন সম্পন্ন করেন। এ সময় কোনো পুরুষ মানুষ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়।
বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার জন্য মরদেহ পুলিশ লাইনসে রাখা হয়। রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, জেলা জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা মরদেহ দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
