ঢাকা, বুধবার ২৮, অক্টোবর ২০২৬ ১৩:২৩:২৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চীনে শিশুর চেয়ে প্রবীণ বেশি, আর্থিক চাপে পরিবার ও রাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৫৮ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চীনে কর্মক্ষম মানুষের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণের সংখ্যা এবারই প্রথম শিশুদের ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক এই পরিবর্তন পরিবার, পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কর্মক্ষম জনসংখ্যার তুলনায় নির্ভরশীল প্রবীণের অনুপাত বেড়ে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ২২ শতাংশ।

দেশটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। তারা চীনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ। বিপরীতে, ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন চীনের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং প্রবীণদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পেনশন, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক স্টুয়ার্ট গিটেল-বাস্টেনের মতে, জনসংখ্যার এই পরিবর্তন সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকারেও প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবার ও শিক্ষাখাতের পরিবর্তে পেনশন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক মু ঝেং বলেন, প্রবীণের সংখ্যা বাড়ার এই প্রবণতা চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এক সন্তান নীতির প্রভাব

চীনের জনসংখ্যার বয়স বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দীর্ঘায়ুর পাশাপাশি দেশটির এক সন্তান নীতিও এর অন্যতম কারণ।

১৯৮০ সাল থেকে ২০১৫ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণ করা। চীনের সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি কার্যকর থাকায় প্রায় ৪০ কোটি জন্ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে এই হিসাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে পরিবারে সন্তানসংখ্যার ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও জন্মহার বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে বেইজিং। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নারী-পুরুষের পরিবর্তিত সামাজিক ভূমিকা এবং শিক্ষার প্রসারও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

প্রবীণদের জন্য বাড়ছে সরকারি সহায়তা

প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চীন সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ও বয়স্কদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি প্রবীণ নাগরিক ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছিলেন।

চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর দশকের মধ্যে জন্ম নেওয়া অনেক প্রবীণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি। তাদের অনেকেই তুলনামূলকভাবে সুস্থও রয়েছেন।