ঢাকা, শুক্রবার ৩০, অক্টোবর ২০২৬ ১২:২৫:১০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বাজারে শীতের সবজির আগমন, স্বস্তি নেই সব পণ্যে

জোসেফ সরকার

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১৮ এএম, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

বাজারে শীতের সবজির আগমন, স্বস্তি নেই সব পণ্যে

বাজারে শীতের সবজির আগমন, স্বস্তি নেই সব পণ্যে

রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজির উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে উঠেছে নতুন আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি। তবে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়লেও সব পণ্যের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। কোনো কোনো সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও সাধারণ ক্রেতাদের ভাবিয়ে তুলছে।

আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের সাম্প্রতিক দর ও ২৯ অক্টোবরের বাজার পরিস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র:

বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা। শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ছোট বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। বেগুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। অন্যদিকে পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

পুরোনো আলুর দাম কমে কেজি ২৫ টাকায় নেমেছে। বাজারে নতুন ও পুরোনো আলুর দামের বড় ব্যবধানও ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।

চাল, ডাল ও তেলের দাম:

টিসিবির ২৮ অক্টোবরের ঢাকা মহানগরীর খুচরা বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা এবং সরু চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৮৯ থেকে ২০০ টাকা এবং বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ থেকে ১৬০ টাকা এবং চিনি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ-মাংস ও ডিমের বাজার:

মাছের বাজারেও দামের ভিন্নতা রয়েছে। আকার ও মানভেদে রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ইলিশের দাম আকারভেদে আরও বেশি।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ থেকে ১৩৫০ টাকা। ফার্মের ডিমের দাম হালিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

ক্রেতাদের অসন্তোষ:

বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে বাড়িভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ—সব মিলিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে প্রতিটি পণ্য কেনার আগে হিসাব করতে হচ্ছে।

একজন ক্রেতার ভাষায়, “বাজারে এসে আগে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেক কিনতেও চিন্তা করতে হয়। মাছ, মাংস, সবজি—সবকিছুর দাম হিসাব করে কিনতে হচ্ছে। আয় তো আর প্রতিদিন বাড়ছে না!”

বিক্রেতাদের বক্তব্য:

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্যের দাম শুধু খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করে না। পাইকারি বাজারের দর, পরিবহন খরচ, সরবরাহ ও পণ্যের মানের ওপরও দাম নির্ভর করে। নতুন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।

এক সবজি বিক্রেতার ভাষায়, “আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে কিনি, তার সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে বিক্রি করতে হয়। নতুন সবজি বেশি পরিমাণে এলে দাম কমার সম্ভাবনা আছে।”

বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি:

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও অতিরিক্ত দাম নেওয়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রেতাদের।

শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দাম কমবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। এখন দেখার বিষয়, নতুন মৌসুমের সবজি সত্যিই কতটা স্বস্তি এনে দিতে পারে সাধারণ ভোক্তার জীবনে।