এইচএসসিতে যশোর বোর্ডের ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০১ পিএম, ১ নভেম্বর ২০২৬ রবিবার
সংগৃহীত ছবি
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে মেয়েদের এগিয়ে থাকা ফলাফলের অন্যতম ইতিবাচক দিক।
এদিকে, বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ শীর্ষে এবং জেলাভিত্তিক ফলাফলে যশোর জেলা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ ছাড়া তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফলাফল ঘোষণা করে এসব তথ্য জানান যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০ জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪০টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী।
ফলাফলে ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার ধারাবাহিকতা
এবারও যশোর বোর্ডের ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো করেছে। ৫৪ হাজার ৮১১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২১ হাজার ৫০২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৭ হাজার ৯৮০ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ২৯ হাজার ১৬৬ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৩০ শতাংশ।
জিপিএ-৫ অর্জনেও এগিয়ে ছাত্রীরা। মোট ৩ হাজার ২২৮ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ১ হাজার ৮৭০ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৩৫৮ জন। অর্থাৎ মেধার স্বীকৃতিতেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগে সাফল্যের চিত্র উজ্জ্বল
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ সবচেয়ে ভালো করেছে। এ বিভাগে ২১ হাজার ৬৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।
মানবিক বিভাগে ৭৯ হাজার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষে যশোর
জেলাভিত্তিক ফলাফলে পাসের হারে বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে যশোর। এ জেলায় পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা, পাসের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ এবং মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নড়াইল জেলায় পাসের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ
বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণে এ বছর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হয়নি। এ বছর ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলায় ৮৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং আইসিটিতে ৫৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকের স্বল্পতাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আন্তঃবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে আগামীতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শতভাগ পাস তিন প্রতিষ্ঠানে
এ বছর যশোর বোর্ডের অধীনে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ খুলনা এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ৪৩ জন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ খুলনার ৬১ জন এবং ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ জন পরীক্ষার্থী সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে বিপরীতে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য ও ফলাফলের কারণ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধের উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। এ বছর পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশে এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ৩ হাজার ২২৮ জন। তবে ছাত্রীদের সাফল্য, বিজ্ঞান বিভাগের ভালো ফল ও যশোর জেলার শীর্ষস্থান এবারের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক দিক। সূত্র: বাসস
