ঢাকা, সোমবার ০২, নভেম্বর ২০২৬ ১২:১৪:৩১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অভাব-অনটন জয় করে যমজ দুই বোন পেলেন জিপিএ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৪ এএম, ২ নভেম্বর ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আর্থিক সংকট, বাবার বেকারত্ব আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দুজনই পেয়েছে জিপিএ-৫। তাদের এমন সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।

রহিমা ও রাবেয়া রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জি গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৪২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুজন। আর সেই দুজনই যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া। এ ছাড়া উপজেলার সাতটি কলেজ, তিনটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চারটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী।

তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার রিজু ও মা নাসিমা বেগম। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে রহিমা ও রাবেয়া। বাবা বেকার থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে পরিবারটি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে মা-বাবাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে দারিদ্র্য তাদের শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

দুই বোনের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রাইভেট শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন, আহসান হাবিব ও সোহেল স্যার তাঁদের একজনকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। অন্যদিকে ভর্তি, ফরম পূরণ ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন খরচে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি উপবৃত্তিও পেয়েছে তারা।

মেয়েদের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী বেকার থাকায় অনেক কষ্টে মেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছেন। শিক্ষকদের বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান, কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও উপবৃত্তির কারণে মেয়েরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।

নিজেদের পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রহিমা ও রাবেয়া জানায়, বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও কমানো এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সময় বাদে দিনের প্রায় পুরোটা সময় পড়ালেখায় কাটত। ভালো ফলের জন্য ঘুমও সীমিত রাখতে হয়েছে। এখন তাদের স্বপ্ন ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। সে লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রহিমা ও রাবেয়াই মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দুই বোনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

অভাব-অনটন আর প্রতিকূলতার মধ্যেও দুই বোনের এই অর্জন রামকার্জি গ্রামসহ পুরো এলাকায় গর্বের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তাদের সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রতিকূলতা জয় করে শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।