মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪২ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ ও দেশটির দুই বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর বৃহস্পতিবার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজধানী হাভানায় তাদেরকে আটক করা হয়েছিল।
সানচেজ কিউবার স্বাধীন সাংবাদিক ও দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
৫১ বছর বয়সী ইয়োয়ানি সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমি এইমাত্র বাড়ি ফিরেছি। আজ সকালে আমাকে খামখেয়ালিভাবে আটক করা হয়েছিল, সে খবর ছড়িয়ে দেওয়া এবং আমার প্রতি সংহতি প্রকাশ করার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের এই সমর্থনই শেষ পর্যন্ত কারাগারের শিকল খুলে আমাকে মুক্ত হতে সাহায্য করেছে।’
সানচেজের প্রতিষ্ঠিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘১৪ইমেদিও’ জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালে হাভানার নুয়েভো বেদাদো এলাকায় নিজের বাসা থেকে কেনাকাটা করতে বের হওয়ার সময় পুলিশের সদস্যরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
তার আটকের ঘটনায় একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা নিন্দা জানিয়েছিল।
সানচেজ জানিয়েছেন, কারাগারের ভেতরে যারা পরিচিত নন বা যাদের কথা প্রকাশ্যে আসে না, তাদের কষ্ট ও চরম নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো নিয়ে তিনি শুক্রবার আরও বিস্তারিত জানাবেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের গল্পগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরার দায়িত্ব আমার রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার কিউবার আরও দুই পরিচিত মানবাধিকারকর্মীকে কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করা হয়েছিল।
তারা হলেন— ‘লেডিস ইন হোয়াইট’ আন্দোলনের নেত্রী বার্তা সোলের ও সংগঠনটির সদস্য মারিয়া ক্রিস্টিনা লাব্রাদা।
সোলেরের স্বামী অ্যাঞ্জেল মোয়া এএফপিকে জানান, বিরোধী আন্দোলনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওই দুই নারীকে ‘রাস্তায় মাঝপথ থেকে’ আটক করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না।’
পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোয়া এএফপিকে জানান, ওই দুই নারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্পেনভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা কিউবান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে সোলের ও লাব্রাদার অবস্থান সম্পর্কে ‘অবিলম্বে তথ্য’ প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল।
সানচেজ আটকের খবরটি সংক্ষিপ্ত খুদেবার্তার মাধ্যমে তার সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন।
২০০৮ সালে স্প্যানিশ ভাষার সাংবাদিকতায় অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘ওর্তেগা ই গাসেত’ পুরস্কার পান তিনি। একই বছর টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায়ও তার নাম স্থান পায়।
কিউবার অন্যান্য স্বাধীন সাংবাদিকের মতো সানচেজও দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সানচেজের আটকের পাশাপাশি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ‘লা ওরা দে কিউবা’র পরিচালক সাংবাদিক হেনরি কনস্টান্টিনকে আটক রাখারও সমালোচনা করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে যাদের আটক রাখা হয়েছে, তাদের সবাইকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে আমরা কিউবা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০২৩ সালে প্রণীত কিউবার একটি আইন অনুযায়ী, দেশটিতে কেবল রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যমগুলোই অনুমোদিত।
