প্রথমবারের মতো আয়োজন : শিল্পকলা একাডেমীতে চলছে নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র উৎসব
প্রকাশিত : ১২:৪৯ পিএম, ৯ অক্টোবর ২০১৩ বুধবার | আপডেট: ০৮:০৭ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : বিগত চার দশকে দেশের নারী নির্মাতারা নির্মাণ করেছেন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তবে এই নারী নির্মাতাদের নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে কখনো পৃথকভাবে কোনো উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো শিল্পকলা একাডেমীতে চলছে চলচ্চিত্র উৎসব। দেশের ২৪ জন নারী চলচ্চিত্রকারের ৩২টি কাহিনী, প্রামাণ্য ও স্বলদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হচ্ছে এ উৎসবে। যৌথভাবে উৎসবের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমী ও ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি। গত রোববার রোববার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এই উৎসবের উদ্বোধন ও নারী নির্মাতাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খ্যাতিমান নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, একাডেমীর চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, মুভ্যিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি বেলায়াত হোসেন মামুন প্রমুখ। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেখানো হয় শামীম আখতার নির্মিত চলচ্চিত্র ‘সে’ এবং ক্যাথরিন মাসুদের ছবি ‘মুক্তির গান’।
এর আগে উৎসবের উদ্বোধক ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী ২২জন নির্মাতা ও তাদের প্রতিনিধির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা ক্রেস্টপ্রাপ্ত নারী নির্মাতারা হলেন-সারাহ বেগম কবরী, কোহিনুর আক্তার সূচন্দা, শামীম আখতার, ক্যাথরিন মাসুদ, ইয়াসমিন কবির, নার্গিস আক্তার, আরিফা পারভীন জামান মৌসুমী, সামিয়া জামান, ফৌজিয়া খান, রোকেয়া প্রাচী, শাহনেওয়াজ কাকলী, শবনম ফেরদৌসি, রেশমী আহমেদ, নাসরিন সিরাজ এ্যানী, শামীমা বিনতে রহমান, হুমায়রা বিলকিস, সৈয়দা নিগার বানু, উম্মুল ফাতেমা পুস্প, আরাত্রিক বকশী, অদ্রি হৃদয়েশ, তাসমিয়া আফরিন মৌ ও সুমাইয়া ইসলাম।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী বলেন, নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নিয়ে আয়োজিত এ উৎসব আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। এ উৎসবে যাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে তারা সবাই আমার প্রিয়জন।’
মোরশেদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে যেসব নারী চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছেন তারা সাফল্যের দিক থেকে অনেক পুরুষ নির্মাতাকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম প্রামাণ্যচিত্র প্রতিযোগিতা থেকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছেন ইয়াসমিন কবির। যেটা আমাদের কোনো পুরুষ নির্মাতা পারেন নি। ’
উৎসবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, এর আগে নারী জাগরণের নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হলেও নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র নিয়ে কোনো উৎসব হয়নি। এ উৎসব চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি নারী নির্মাতাদের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি করবে। শুধু তাই নয়, এ উৎসব আয়োজন মাধ্যমে মৌলবাদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। কথা নয়, কাজের মাধ্যমে নারীর সাফল্যের কথা জানানো হবে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে।
৮ অক্টোবর’২০১৩
