সীমান্তে শরণার্থী শিশুর মৃত্যু, চাপে ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:২২ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার
সাত বছরের ছোট্ট একটি শিশু বাবার হাত ধরে মেক্সিকো সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছিল। সেখানেই ধরা পড়ে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) অফিসারদের হাতে। আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার আট ঘণ্টার মধ্যে শিশুটির ১০৫ ডিগ্রি জ্বর হয়। নিস্তেজ শিশুটিকে এল পাসোর ‘প্রভিডেন্স চিল্ড্রেন্স’ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয় সে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সে মারা যায়।
ঘটনাটা ৬ ডিসেম্বরের। কিন্তু সম্প্রতি ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সিবিপি অফিসারদের। প্রশ্ন উঠছে মার্কিন ডিটেনশন সেন্টারগুলির পরিবেশ নিয়েও।
দুঃখপ্রকাশ করেছে সিবিপি। বাচ্চাটির ময়নাতদন্তের নির্দেশও দিয়েছে। তাতেও ঢাকা পড়ছে না মেক্সিকো সীমান্তের শরণার্থী বিতর্ক।
তথ্য বলছে, গুয়াতেমালার মতো দেশ থেকে শয়ে শয়ে শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মেক্সিকো সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন। তাদের রুখতে কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে ট্রাম্প। হুঙ্কার দিয়েছেন, বিক্ষোভকারী শরণার্থীরা পাথর ছুড়লে সেনার গুলি চলবে।
সিবিপি রেকর্ড বলছে, ৬ ডিসেম্বর রাত ১০টা নাগাদ নিউ মেক্সিকোর লর্ডসবুর্গের কাছে এই শিশু ও তার বাবাকে আটক করা হয়। ১৬৩ জনকে লুকিয়ে আমেরিকা ঢোকানোর চেষ্টা করছিল এক এজেন্ট। পুরো দলটাকেই আটক করে সিবিপি। পরদিন ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ থেকে বাচ্চাটির শরীর খারাপ হতে শুরু করে।
সিবিপি সূত্রে দাবি, বাচ্চাটি বেশ কিছুদিন ধরে খাবার-পানি কিছুই পায়নি। সিবিপি-র মুখপাত্র অ্যান্ড্রু মেহানের অবশ্য দাবি, বাচ্চাটিকে বাঁচানোর সব রকম চেষ্টা করা হয়েছিল।
কিন্তু বর্ডার রাইটস সেন্টারের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজারের দাবি, সিবিপি দায় এড়াতে চাইছে। শিশুটির মৃত্যুতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।
প্রসঙ্গত, বাচ্চাটির বাবাও গুয়েতামালার কনসুলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করার জন্য এল পাসোতে রয়ে গেছেন। বাচ্চাটির দেহের ময়নাতদন্তও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপটিক শক, জ্বর, ডিহাইড্রেশন লেখা হয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে ভিড়ও বাড়ছে। সিবিপি কমিশনার কেভিন ম্যাকঅ্যালিনানের দাবি, এই ডিটেনশন সেন্টারগুলো কয়েক দশক পুরোনো। মূলত পুরুষদের আটক করে রাখার জন্য এগুলো তৈরি করা হয়েছিলো। কিন্তু এখন শরণার্থীদের অধিকাংশ পরিবার-সন্তান নিয়ে আসছেন, ফলে তাদের আটক করে রাখা একটা সমস্যা। সেক্ষেত্রে শরণার্থীদের কি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আটকে রাখা হচ্ছে? সাত বছরের শিশুর মৃত্যু এমন অনেক প্রশ্ন উঠছে।
