নৌকা মার্কায় আবারও ভোট চাই: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৮:৫৯ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার
ছবি : ফোকাস বাংলা
প্রধান শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের আরও পাঁচটি বছর সরকারে থাকা একান্ত প্রয়োজন। সেজন্য আজকে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় আমি বাঙালি জাতির কাছে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে নৌকা মার্কায় আবারও ভোট চাই।’
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে। তারা নাকি সরকার গঠন করবে। সরকারের প্রধান কে হবে, সেটা আজ পর্যন্ত জাতির সামনে দেখাতে পারে নাই।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা প্রশ্ন রেখে যাই, তাদের সরকারপ্রধান কে হবে? এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী? নাকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানের হত্যাকারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী? না যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজা দিয়েছি তাদের কাউকে করবে? সেটা তো তারা স্পষ্ট করে বলেননি, সে কথা তো দেশবাসী জানেন না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি নিজের আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ‘দেশবাসীকেও বেছে নিতে হবে তারা কি ধরনের সরকার চান। দেশের জনগণের ওপরই আমি এই দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। আমি একটা কথাই বলব, নৌকা মার্কায় ভোট চাই। দেশের সেবা করে, দেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। আমার বিশ্বাস আছে, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন মানুষ ভালো থাকে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, তখন তারা বলে, এটা নাকি স্বেচ্ছাচারীতা। স্বেচ্ছাচারিতাটা কীভাবে হলো— আমার সেটা প্রশ্ন। স্বেচ্ছাচারীতার কি দেখতে পেলো তারা?
তিনি বলেন, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেখলাম ঘোষণা করেছে, “১০ বছরের স্বেচ্ছাচারীতাকে তারা পরিবর্তন করবে।” পরিবর্তন কি জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানি লল্ডারিং, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশে আবার সন্ত্রাস, আবার ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা, নির্বাচনের আগে প্রহসন, আবার দেশের সমস্ত উন্নয়ন ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে সম্পূর্ণভাবে আবার একেবারে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাওয়া। এই পরিবর্তনটা তারা আনতে চান?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ অতীতে তারা ছিল তো ক্ষমতায়। ৪৭ বছর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই ৪৭ বছরের মধ্যে ৩৯ বছরই তো এরা ক্ষমতায় ছিল। কি দিয়েছিল মানুষকে? কি পেয়েছে মানুষ?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত, দুর্নীতিবাজদের উদ্ধার করতে নেমেছে আমাদের কিছু জ্ঞানী-গুণী এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবিরা। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের সাজা হয়েছে তাদেরই ছেলেরা মনোনয়ন পায় এদের কাছ থেকে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে যারা যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত তাদের কেউ কখনো কোনো স্থান করে দেয় না। কি দুর্ভাগ্য আমাদের যারা জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেয়, বড় বড় কথা বলে, আজকে তাদের আদর্শহীনতা, সব ধরনের উচ্চবাচ্য সবকিছু যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। তারা এখন হাত মিলিয়েছে এদের সঙ্গে, কিসের স্বার্থে, কেন?’
