‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শ্লোগানে অা. লীগের ইশতেহার
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:০৫ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার
‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শ্লোগানে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ‘দিনবদলের সনদ’, ২০১৪ সালের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ এরপর আসন্ন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’।
অাজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার ও আমার সহকর্মীদের ভুল হতে পারে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে তা ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাবা, মা ভাই-বোনকে হারিয়ে রাজনীতি করছি শুধু মানুষের কল্যাণের জন্য। আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনে দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।
৩৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীদের জন্য বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে। আর তা হলো- নারীর ক্ষমতা, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ। ইশতেহারে নারী-পুরুষ সমমজুরি ও মাতৃত্বকালীন ছুটির বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
এতে তরুণ সমাজকে উৎপাদনমুখী করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে আওয়ামী লীগ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, আর যুবসমাজ, তারুণ্যের এই শক্তি-ই বাংলাদেশের সমৃদ্ধি। সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধানতম শক্তি যুবশক্তি। দেশের এই শক্তিকে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিকে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ; নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ; পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা; সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল; মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন; গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা; সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দারিদ্র্য নির্মূল; সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি; নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা; প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচি, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রকৌশলী, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধি, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
২১ বিশেষ অঙ্গীকার : ১. আমার গ্রাম, আমার শহর- গ্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ। ২. তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিকে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। ৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। ৪. নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ। ৫. পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা। ৬. সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূল। ৭. মেগা প্রজেক্টগুলোর দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন। ৮. গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা। ৯. দারিদ্র্য নির্মূল। ১০ সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি। ১১. সকলের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা। ১২. সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার। ১৩. বিদ্যুত্ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। ১৪. আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা- লক্ষ্য যান্ত্রিকিকরণ। ১৫. দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন। ১৬. জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। ১৭ ব্লু ইকোনোমি- সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন। ১৮. নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা। ১৯ . প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিজম কল্যাণ। ২০. টেকসই উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ২১. সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এদিকে ইশতেহারে জাতীয় প্রেসক্লাবের বহুতল ভবন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
পুরো ইশতেহারটি পড়তে ক্লিক করুনঃ http://manifesto2018.albd.org/
