‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়ার ভোটের লড়াই
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:২৩ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার
‘অগ্নিকন্যা’ মতিয়া চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল তারকা। সততা, নিষ্ঠা ও সফলতায় তিনি এক আদর্শ নাম। মতিয়া চৌধুরী শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি দলীয় প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীকে দুইবার হারিয়েছেন। একবার অল্পকিছু ভোটের ব্যবধানে হেরেছেনও তার কাছে।
আসন্ন একাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী জাহেদ আলীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী।
জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-২ আসন থেকে চারবার বিজয়ী হয়ে আসনটিকে আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত করে তোলেন এই ‘আগ্নিকন্যা’।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য অবশ্য ২০০১ সালের নির্বাচনে মাত্র ২ হাজার ৫০০ ভোটে প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।
অন্যদিকে ২০০৮ সালে জীবনের শেষ নির্বাচনে জাহেদ আলী মতিয়া চৌধুরীর কাছে রেকর্ড ভোটে হেরে যান।
গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য হতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন সফল নারী রাজনীতিবিদ।
তার পক্ষে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্রতিদিনই ৫ থেকে ৬টি করে পথসভা করছেন তিনি।
দেশের কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি উন্নয়নযজ্ঞে দুই উপজেলার চেহারাও বদলে দিয়েছেন মতিয়া, এমন দাবি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের।
নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় মতিয়া চৌধুরীর বিকল্প নেই। তার সততা দলমত নির্বিশেষে প্রশংসিত। আসনটিতে নৌকার চেয়েও ব্যক্তি মতিয়া চৌধুরীর ভোট বেশি। জনপ্রিয়তায় প্রতিদ্বন্দ্বী নবীন প্রার্থী তার সামনে টিকতে পারবেন না। ভোট রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়ে আবারও সংসদে যাবেন তিনি।
মতিয়া চৌধুরী ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ব্যক্তিজীবনে ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
পিতার চাকরির সুবাদে মতিয়া চৌধুরীর শৈশব কেটেছে মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও জামালপুর শহরে। ১৯৫৮ সালে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বদরুন্নেসা গার্লস স্কুল ম্যাট্রিক পাস করেন। কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ইডেন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯৬২ সালে বিএসসি পাস করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবন তার। রয়েছে নানা দুর্বিসহ স্মৃতি। একবার-দুইবার নয়, ১৫ বার জেলে গেছেন।প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন। বছরের পর বছর আত্মগোপনে কাটিয়েছেন। কোনো রকম লোভ-লালসা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি আজও। সততা তার সফলার মূল চাবি।
বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য।তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতি দিয়ে। তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
তিনি ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নএর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে "অগ্নিকন্যা" নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রির দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানেও এই মন্ত্রলায়ের দায়িত্বে আছেন। দেশের কৃষির চেহারা ব্যাপক পরিবর্তন করেন তিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলও হন।
আওয়ামী লীগের বর্তমান আমলে কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকির ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি যন্ত্রপাতি কিনলে ৩০ শতাংশ ভর্তুকিও দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
১৯৯৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই মতিয়ার দৃঢ় পদক্ষেপে খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ হয়েছে খাদ্য উদ্ধৃতের দেশ। ২০০১ সালে যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা হস্তান্তর করে আওয়ামী লীগ তখন দেশের খাদ্য উদ্ধৃত ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন।
এরপর জোট সরকারের পাঁচ বছরে আবার খাদ্যে ঘাটতি দেখা দেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর আবার শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মতিয়া চৌধুরী। আবারও খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয় দেশ। হাওরে চলতি বছর অকাল বন্যায় ফসলহানির পরও দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কাই নেই।
