ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ১০:৪৮:৩৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রিক্সা মেরামতের দোকানি সুন্দরী বেগম

প্রকাশিত : ১২:৩৬ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার | আপডেট: ১২:৪৩ পিএম, ১১ অক্টোবর ২০১৩ শুক্রবার

sunduri11-Eশাপলা বড়ুয়া, স্টাফ করসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : ঘরের চার দেয়ালে আজ আর বন্দি নেই নারী। জীবনের প্রয়োজনে বেড়িয়ে এসেছে বাইরে। প্রতিনিয়ত করছে বেঁচে থাকার লড়াই। উচ্চবিত্ত থেকে বস্তি বাসী সকল নারীর চিত্রই যেন এক। তবে নিুবিত্ত নারীর লড়াই যেন বড়ই কঠিন। বাড়ির বাইরে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করছেন তারা। সাহসিকতার সঙ্গে রাস্তার টংয়ের দোকান, মাটিকাটা শ্রমিক, ফুটপাতে ভাত বিক্রি, পানের দোকানিসহ বিচিত্র কাজ করছেন শুধুই পেটের দায়ে। কষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত কপালে জুটছে সফলতা। নারী জীবনের প্রয়োজনে হয়ে উঠছেন কর্মী নারী। এমনই একজন সাহসী নারী সুন্দরী বেগম। ৪ বছর ধরে রাজধানীর আরামবাগে রিক্সা মেরামতের কাজ করছেন সুন্দরী বেগম। অবশ্য মেরামতের কাজ তিনি নিজে করেন না। ছোট চৌকনো বাক্সের ওপর রাখা গ্রিস মবিল, বাম্পার ও  ডালির মত যন্ত্রপাতিগুলো থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি নিয়ে রিক্সা চালকরা নিজেরাই ঠিক করে নেয় রিক্সা। তবে এক্ষেত্রে রিক্সা চালকদের সঙ্গে হাত লাগিয়ে টুকিটাকি সহযোগিতা করে তার ৮ বছরের ছেলে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সেবা দেয়ার পরও মেরামত খরচে বৈষম্যের শিকার হতে হয় তাকে। একারণে অন্যান্য পুরুষ দোকানদারের চাইতে মেরামত খরচ ৩ টাকা কম রাখেন সুন্দরী। এক্ষেত্রে সুবিধা হল, ঘুরেফিরে তার দোকানেই ভীড় হয় চালকদের। তবে অনেক সময় চালকরাও দিতে চায় না ন্যায্য দাম। এরপরও  প্রতিদিন ৩৫০-২৫০ টাকা আয় হয় তার। এর সঙ্গে বাধাধরা পুলিশের ৫০ টাকা আর প্রতি সপ্তাহ অন্তর হিজারাদের ৫ টাকা চাঁদা তো আছেই। এর মধ্যেই বাড়ি ভাড়া ১০০০ টাকা দিয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে বেঁচে-বর্তে আছেন সুন্দরী। স্বামী মারা যাবার পর ১১ বছর ধরে দুই ছেলেকে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়তে হয় তাকে। নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়ে শেষ সম্বল ভিটেটুকু হারিয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান সুন্দরী। তখন ডেরা বলতেই ছিল রাস্তার খোলা আকাশ বা কোন যাত্রী ছাউনী। এক্ষেত্রে বাসাবাড়ির কাজ জুটে যাওয়ায় কপাল ফেরে তার। কিন্তু বড় ছেলে সংসার করে আলাদা হয়ে যাওয়ায় হোচট খেতে হয় তাকে। বাসাবাড়ির কাজ করতে করতেই একসময় রিক্সা মেরামতের দোকানের চিন্তা মাথায় খেলে তার। এভাবেই দেখতে দেখতে মোটা বাঁশের ওপর সাঁটানো বিশাল ছাতার নিচে ছোট দোকান সুন্দরীর বেঁচে থাকার স্বপ্নে নিয়ে আসে এক নতুন মাত্রা। সুন্দরী বেগম বলেন, ‘ভালো আছি। স্বাধীনভাবে কাজ করছি। যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে ছোট ছেলেটাকে নিয়ে কেটে যাচ্ছে দিন। এই ছেলেটাকে একটা আয়ের পথ করে দিতে পরলে নিশ্চিন্ত হবো।’ ১১ অক্টোবর, ২০১৩