বড় পরিবর্তন আসছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:০৬ এএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর নিজ কার্যালয়ে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বড় ধরণের পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছেন, এমন অনেককে সরিয়ে নতুন মুখ আনতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার মতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাচিবিক অনুবিভাগ, ব্যক্তিগত অনুবিভাগ, প্রেস অনুবিভাগসহ বিভিন্ন উইংয়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এমনকি কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরিচালক পদেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে উপসচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন শাহ আলী ফরহাদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে ব্যারিস্টার ফরহাদ এর আগে আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সিআরআইয়ের সিনিয়র এনালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ফেরদৌস আহমেদ খানের। সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ পদে কর্মরত ছিলেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
উপসচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ নিয়োগের শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, কার্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন দপ্তরের সম্পর্ক তৈরি করতে এবার বিশেষ সহকারীর পদ বাড়ানো হতে পারে। এখানে কয়েকটি রাজনৈতিক মুখও আসতে পারে। সরকারের মতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গতি বাড়ানোর জন্যই এসব নতুন মুখ আনা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদটি ফাঁকা হয়েছে। এ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে শিখর মাগুরা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের একজন তরুণ সদস্য এ পদে কিছুদিন কাজ করেন। কিন্তু তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা অপরিচিত মুখ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ওই পদে অন্য কাউকে চাচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী চান, রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত, ছাত্র রাজনীতি করেছেন এমন কাউকে তার এপিএস-২ হিসেবে নিয়োগ দিতে। ইতোমধ্যে এ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেতরের ও বাইরের অনেকেই লবিং করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ পদ থেকে মনজিলা ফারুককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন নতুন একজন। বাদ পড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মমিনুননেছা নিনু। তার জায়গাতেও নতুন একজন যোগ দেবেন শিগগিরই।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী মৌখিকভাবে তাকে কাজ শুরু করতে বলেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকনের মেয়াদও শেষদিকে। চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে একই পদে তাকে পুনরায় নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া প্রেস উইংয়ে রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বাকিরা আপাতত বহাল থাকছেন। কারণ চলতি বছরের মাঝামাঝিতে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও দুজন সহকারী প্রেস সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এর পর তাদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব নজরুল ইসলামকে সচিব পদমর্যাদায় ‘স্ক্রিপ্ট রাইটার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তার নিয়োগের জন্য ব্যবস্থা নিতে ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ফটোগ্রাফার হাবিবুর রহমান হাবিবকে বাদ দেয়া হয়েছে, তার স্থলে নতুন একজনকে নিয়োগ দেয়া হবে। প্রেস উইংয়ে দায়িত্বরত সরকারি কর্মকর্তা যারা, তারা আপাতত বহাল থাকছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কম্পট্রোলার আবুল বাশার জুয়েলের চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। তার স্থলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং পরিচালক পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
-জেডসি
