ঢাকা, রবিবার ১২, জুলাই ২০২৬ ১:৪৭:৩০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

মোদি জমানায় বেকারত্বের রেকর্ড ভারতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:০৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভারতে গত ৪৫ বছরে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে। ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিসের সমীক্ষায় সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার হাতে পৌঁছেছে দেশের কর্মসংস্থানের তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সমীক্ষার সেই ‘গোপন’ রিপোর্ট। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, ২০১৭-১৮ সালে দেশে বেকারত্বের হার ৬.১ শতাংশ, যা গত ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ। এই রিপোর্ট প্রকাশ না করা নিয়েই গত কয়েক দিন ধরে চলছিল বিতর্ক। 

অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই রিপোর্ট প্রকাশ না করায় গতকাল বুধবার ইস্তফা দেন ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশন (এনএসসি) বা জাতীয় পরিসংখ্যান কমিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান-সহ দুই সদস্য।

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ এই রিপোর্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে আমাদের হাতেই। কখন প্রকাশ করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও আমরাই নেব।’ 

এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে প্রকাশ করা না হলেও একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছেছে এই রিপোর্ট। সেখানেই দেখা যাচ্ছে দেশে বেকারত্বের হার এখন আক্ষরিক অর্থেই আকাশচুম্বী। গ্রামের থেকে শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার অনেকটাই বেশি। ভারতবর্ষের গ্রামে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশ, সেখানে শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। সামগ্রীক ভাবে সারা দেশে বেকারত্বের হার গত ছয় বছরে ২.২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.১ শতাংশে। অন্য দিকে সারা দেশের যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশে।

২০১৬ সালে মোদি সরকার নোটবন্দি ঘোষণা করার পর এটিই প্রথম সরকারি সমীক্ষা। দেশে বেকারত্ব বাড়ছে, বিরোধীরা লাগাতার এই অভিযোগ তুললেও সেই সংক্রান্ত কোনও সরকারি রিপোর্ট এতদিন সামনে আসেনি। এই রিপোর্ট প্রকাশ নিয়েও বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে টালবাহানা। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই রিপোর্ট চেপে রাখার অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশন-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান পি সি মোহনন। তার অভিযোগ ছিল, ‘ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস’ বা এনএসএসও-র ২০১৭-১৮ সালের রিপোর্ট (যা আসলে কর্মসংস্থানের তথ্য ও পরিসংখ্যান) খুঁটিয়ে পরীক্ষার পর ডিসেম্বর মাসেই প্রকাশ করার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছিল এনএসসি। কিন্তু তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি’। মোহননের সঙ্গেই ইস্তফা দেন এনএসসি-র আরও এক সদস্য জে ভি মীনাক্ষী। 

এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে গ্রামের শিক্ষিত মহিলাদের ক্ষেত্রে ২০০৪-০৫ থেকে ২০১১-১২ অর্থবর্ষপর্যন্ত বেকারত্বের হার ছিল যথাক্রমে ৯.৭ এবং ১৫.২ শতাংশ। সেই বেকারত্ব ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে গিয়ে পৌঁছেছে ১৭.৩ শতাংশে। গ্রামের শিক্ষিত পুরুষদের ক্ষেত্রে ২০০৪-০৫ থেকে ২০১১-১২ অর্থবর্ষ পর্যন্ত বেকারত্বের হার ছিল যথাক্রমে ৩.৫ এবং ৪.৪ শতাংশ। সেই বেকারত্বই ২০১৭-১৮ আর্থিক বর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৫ শতাংশে।

রিপোর্ট অনুয়ায়ী, গ্রামের ১৫-২৯ বছর বয়সী যুবকদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার এখন শোচনীয়। ২০১১-১২ সালে সমাজের এই অংশের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে তা প্রায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৪ শতাংশে। গ্রামের ১৫-২৯ বছর বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রেও বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। ২০১১-১২ সাল থেকে ২০১৭-১৮, এই ছয় বছরে তাঁদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩.৬ শতাংশ।

সরকারিভাবে এই রিপোর্ট সামনে না নিয়ে এলেও লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই এই রিপোর্ট ফাঁস হওয়ায় নিশ্চিত ভাবেই বিপাকে পড়বে বিজেপি। অন্য দিকে বেকারত্বকে নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু করে তুলতে চাওয়া বিরোধীদের কাছে এই রিপোর্ট নিশ্চিত ভাবেই হয়ে উঠবে অন্যতম অস্ত্র। প্রশ্নের মুখে পড়বে ক্ষমতায় আসার আগে নরেন্দ্র মোদির ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও।