ঢাবির চারুকলায় চলছে বসন্ত উৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:১০ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার
ঢাবির চারুকলায় চলছে বসন্ত উৎসব, ছবি : উইমেননিউজ২৪.কম
ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান, রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাওগো এবার যাবার আগে, ঝরো ঝরো ঝরে রঙের ঝরণা, কিংবা আহা আজি এ বসন্তে এতো ফুল ফোটে, এত পাখি গায়- এমন সব গানেই আজ বুধবার ভোর থেকে মুখরিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলা।
ফাগুনের প্রথম দিনকে বরণ করতে আজ সকাল থেকেই চারুকলার বকুলতলায় শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে পলাশ, শিমুলসহ বর্ণিল ফুলে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। সেই রঙের ছোঁয়া যেন লেগেছে সবার মনে। হলুদ, বাসন্তী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি এবং রঙিন ফুলে নিজেকে সাজিয়ে নানা বয়সের মানুষ হাজির হয়েছেন বকুলতলায়। গানের তালে তালে চলছে নৃত্য পরিবেশনা। সেইসাথে আবৃত্তি, লোকগান মাতিয়ে রেখেছে সবাইকে। এ যেন এক প্রাণের উৎসব।
প্রতি বছরের মত ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও বসন্ত উৎসব ১৪২৫ আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ।
মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। চারুকলা প্রাঙ্গণে নানা বয়সি মানুষের মিলনমেলা যেন কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এই লাইনটাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। চারুকলার বকুলতলা থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পুরোটাজুড়েই যেন আজ ফাগুনের সাজ। প্রকৃতি তো ইতোমধ্যে শেষ করেছে তার সাজ-সজ্জা। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আজ সেজেছেন বাসন্তী সাজে।
শীতের পাতা ঝরার দিন শেষে ঘটে বসন্তের আগমন। এ সময়টাতে গাছে গাছে দেখা দেয় কচি পাতা। জানা অজানা নানান ফুলে সুরভিত হয় চারিপাশ। সেইসাথে কোকিলের কুহু তান আর হালকা মিষ্টি হাওয়া মনে দোলা দিয়ে যায় অন্য এক আবেশ। সব মিলে অন্যরকম এক ভালো লাগার ছোঁয়া যেন এই বসন্তকাল। সেই ভালোলাগায় নতুন মাত্রা যোগ করে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানগুলো।
১৯৮৫ সালে সম্রাট আকবর যে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তার মধ্যে বসন্ত উৎসব একটি। তবে পহেলা ফাল্গুনকে বরণ করে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে প্রথম বসন্ত উৎসব উদযাপন করা শুরু হয় ১৪০১ বঙ্গাব্দ থেকে।
