ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১৭:২৫:১৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

আইএস থেকে ফেরা শামিমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩০ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বুধবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

সিরিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেয়ার অপরাধে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন শামিমা।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বসবাসরত শামীমার মাকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন শামিমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আখুনজি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্বের যোগ্য হলেই ১৯ বছর বয়সী শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যেতে পারে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই ব্রিটিশ কিশোরীর সঙ্গে মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্য ছাড়েন শামীমা। সে সিরিয়ায় আইএসের রাজধানী রাক্কায় আশ্রয় নেয়। সেখানে ২৭ বছর বয়স্ক একজন ডাচ নাগরিকের বিয়ে হয় যে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

তারপর থেকে শামিমা ওই ব্যক্তির সাথেই ছিলেন এবং দু'সপ্তাহ আগে তারা পূর্ব সিরিয়ায় আইএস গোষ্ঠীর শেষ ঘাঁটি বাঘুজ থেকে পালিয়ে যান। এ সময় শামিমার স্বামী সিরিয়ান যোদ্ধাদের একটি দলের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শামিমা এখন উত্তর সিরিয়ায় ৩৯ হাজার লোকের বাস এমন একটি শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন।সেখানে সে সিরিয়ায় আইএস উৎখাত অভিযানে আশ্রয় হারিয়ে এখন তার ঠাঁই হয়েছে শরণার্থী শিবিরে।

সেখানেই গত সপ্তাহে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ১৯ বছরের এই তরুণী। ব্রিটিশ দৈনিক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সন্তানের জন্য তিনি লন্ডনে পরিবারের কাছে ফিরতে চান।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ স্পষ্ট করেই বলেছেন, জঙ্গিদের সমর্থন দিয়ে যারা দেশ ছেড়েছে, তাদের ফিরতে দিতে তিনি আগ্রহী নন। তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ব্রিটেন এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান করা।

তবে বিবিসি বলছে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আগে যদি তার সন্তানের জন্ম হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী শিশুটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

পরে ওই শিশুটির নাগরিকত্বও বাতিল করার কথা ভাবতে পারে ব্রিটিশ সরকার। তবে এক্ষেত্রে তার অধিকার এবং রাষ্ট্রের জন্য আদৌ সে ঝুঁকি কি না, সেই সমীকারণ মেলাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

শামীমার মাকে পাঠানো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নোটিসে বলা হয়েছে, তার সঙ্গে যদি মেয়ের যোগাযোগ থাকে অথবা শিগগিরই যোগাযোগ করার সুযোগ হয়, তাহলে যেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।

নাগরিকত্ব বাতিলের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে শামিমাকে।

এদিকে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শামিমা বলেছে, তিনি কখনো বাংলাদেশি যাননি এবং তার কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই।

আর আইনজীবী আখুনজি বলছেন, শামীমার পরিবার বাংলাদেশ থেকে এসেছে- এই যুক্তিতে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। সূত্র: বিবিসি

-জেডসি