ঠাকুরগাঁওয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:২৯ পিএম, ৪ মার্চ ২০১৯ সোমবার
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মরিচপাড়া গ্রামে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর রহস্য জানা গেছে। বাদুরবাহিত নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা যায় বলে রবিবার রোগতত্ত্ব রোগনিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। এতে বলা হয়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। নমুনায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
আইইডিসিআর সূত্র জানায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রোগের কারণ অনুসন্ধানে ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল পাঠায় আইইডিসিআর। এরপর চার সদস্যের আরেকটি দল সেখানে যায়। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মাচ পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করে দল দুটি। এ সময় তদন্ত দল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও মৃত ব্যক্তিদের পরিবারবর্গ, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীদের থেকে তথ্য-উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সবার জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল। তাদের মধ্য থেকে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং উক্ত নমুনায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, নিপাহ রোগ সাধারণত বাদুড় খেজুরের সংক্রমিত কাঁচা রস পান করার মাধ্যমে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়।
উপরোক্ত আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশনে প্রথম মৃত ব্যক্তির খেজুরের কাঁচা রস পান করার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস না পাওয়া গেলেও অন্যরা প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছিল বলে আইইডিসিআর ধারণা করছে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারি ২৫ তারিখে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নে ভান্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর খবর আসে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম মারা যান আবু তাহের (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। আবু তাহের বয়স্ক হওয়ার কারণে বিষয়টি তেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখেনি তার পরিবার।
এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি আবু তাহেরের জামাই হাবিবুর রহমান বাবলু (৩৫) একইভাবে আক্রান্ত হন। পরদিন সকালে ৯টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বাবলুর মৃত্যু হলে জামাইয়ের সেই মৃত্যুর সংবাদ শোনার কিছুক্ষণ পর আবু তাহেরের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৪৫) মারা যান।
২০ ফেব্রুয়ারি একই রোগে আক্রান্ত হন আবু তাহেরের দুই ছেলে ইউসুফ আলী (২৭) ও মেহেদী হাসান (২৪)। তাদের দু’জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পথে সকালে ইউসুফ এবং রাতে সাড়ে ৯টার দিকে মেহেদী মারা যান।
-জেডসি
