ঢাকা, শুক্রবার ১০, জুলাই ২০২৬ ১৫:৫৭:৪৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

শুভ জন্মদিন প্রথম নারী নভোচারী তেরেশকোভা

অনলাইন ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৮ এএম, ৬ মার্চ ২০১৯ বুধবার

১৯৩৭ সালের ৬ মার্চ মধ্য রাশিয়ার তুতায়েভস্কি জেলার মাসলেনিকোভো গ্রামে জন্ম হয় এক সাহসী নারীর। নাম তাঁর ভালেন্তিনা তেরেশকোভা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন প্যারাস্যুটে করে আকাশে উড়বেন। বড় হয়ে শুধুমাত্র সেই স্বপ্ন তিনি পূরণই করেননি ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন মহাশূন্যে বিশ্বের প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে মহাকাশে একক  অভিযানে যান ভালেন্তিনা তেরেশকোভা। ভস্তক ৬ মহাকাশযানে করে ৭১ ঘন্টায় তিনি ৪৮ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন। মহাকাশে অবস্থান করেন ২ দিন ১২ ঘন্টা ২৩ মিনিট। এই একক  অভিযানে তিনি ছাড়াও নির্বাচিত হয়েছিলেন আরো চারজন নারী নভোচারী। তবে সবার তুলনায় বেশি সময় কাটিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ভালেন্তিনা। 

অথচ এর আগে সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ভালেন্তিনা সবার কাছেই ছিলেন সম্পূর্ণ অপরিচিত। তবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা মহাশূন্যে অভিযানের আগে তিনি নিতান্তই একজন  কারখানা শ্রমিক ছিলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিবারের খরচ মেটাতে তাঁকে কাজ নিতে হয় একটি টেক্সটাইল কারখানায়।

তবে স্বপ্নের শুরুটা হয়েছিল ২২ বছর বয়সে। ওই সময় স্থানীয় এক অ্যাভিয়েশন ক্লাবের সদস্য হয়ে প্রথমবারের মতো প্যারাস্যুট থেকে লাফ দেন তিনি। প্যারাস্যুট থেকে লাফ দেওয়ার ওই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁকে সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশ প্রকল্পে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ যোগায়। 

১৯৬২ সালে তিনি সফলভাবে প্যারাস্যুট থেকে লাফ দিলে মহাশূন্যে পাঠানোর জন্য প্রথম নারী হিসেবে তাঁকে নির্বাচন করা হয়।

ভালেন্তিনা তেরেশকোভা মহাকাশ অভিযানে যখন সফলতা লাভ করেন তখন পৃথিবীর অন্যকোন দেশই মহাকাশে নারীদের পাঠানোর কথা চিন্তাও করতে পারেনি। তবে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে কয়েকজন নারীকে মহাকাশ অভিযানের জন্য তালিকাভূক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও পরবর্তী সময় তারা পরীক্ষায় পাশ না করায় আর আগায়নি দেশটি। এরপর ১৯৮৩ সালে স্যালি রাইড প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে মহাকাশ অভিযানে যান।

ভালেন্তিনা তেরেশকোভার পুরো নাম ভালেন্তিনা ভ্লাদিমিরোভনা তেরেশকোপায়ালা। বাবা-মা ছিলেন মূলত বেলারুশের অধিবাসী। পরে বেলারুশ ত্যাগ করে রাশিয়াতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বাবা ছিলেন ট্রাক্টরচালক আর মা কাজ করতেন বস্ত্রশিল্প কারখানায়। 

দারিদ্রতার মধ্যে বসবাসরত ভালেন্তিনা তাই শিক্ষাজীবন শুরু করলেও শেষ করতে পারেননি সেভাবে। ১৯৪৫ সালে দশ বছর বয়সে শুরু করা শিক্ষাজীবনের ইস্তফা টানেন ১৯৫৩ সালের মধ্যেই। পরে অবশ্য তিনি ছাত্রজীবন সমাপ্ত করেন দূরশিক্ষণ পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে।
 
তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সুপ্রিম সোভিয়েতের সক্রিয় সদস্য। ১৯৬৮ সালে সোভিয়েত নারী সমিতির পরিচালক নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন সুপ্রিম সোভিয়েত প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে। ২০০৮ সালে তিনি ইয়ারোস্লাভ প্রদেশের সংসদের ইউনাইটেড রাশিয়া দলের সদস্যরূপে সহ-সভাপতি নিযুক্ত হন। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ "সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর" পদকসহ দুইবার অর্ডার অব লেনিন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। 

ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো সাহসী নারী ভালেন্তিনা তেরেশকোভা সম্ভব হলে মঙ্গলগ্রহেও যেতে ইচ্ছুক। আর যদি কখনো ফিরে আসা না হয়, তবু সে অভিযানে যেতে চান তিনি। ২০১৩ সালে মস্কোর কাছে রাশিয়ার মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্টার সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর এই ইচ্ছার কথা জানান।