ইরাকে শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া ক্রুটিপূর্ণ: এইচআরডব্লিউ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৪:০২ পিএম, ৬ মার্চ ২০১৯ বুধবার
ছবি: ইন্টারনেট
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মনে করে, ইসলামিক স্টেট বা আইএস সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ইরাকি শিশুদের ওপর নিপীড়ন চালানো বিষয়টি অত্যন্ত ক্রুটিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বুধবার সংস্থাটির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরাকি শিশুদের নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করার প্রক্রিয়াটি ক্রুটিপূর্ণ। কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের অধীনে আগে বন্দি থাকা ও এখনো বন্দি আছে এমন ২৯ শিশুর নির্মম অভিজ্ঞতা শুনে এবং কারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নির্যাতিতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে এই প্রতিবেদন দিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকি কর্তৃপক্ষ ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) সন্দেহভাজন শিশুদের প্রায়ই নির্বিচারে আটক করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা ন্যায় বিচার পায় না। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের প্রচণ্ড মারধর ও ইলেকট্রিক শক দেয়া হয় তাদের। এমনকি আত্মীয়, আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হয় না। নিপীড়নের মুখে অনেকেই জড়িত না হয়েও ভয়ে আইএসের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেয়। এইচআরডব্লিউ যে শিশুদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তাদের বেশির ভাগই জানায়, তারা আইএসের হয়ে যুদ্ধ করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কুর্দি আদালতে শিশুদের পক্ষে কোনো আইনজীবী থাকে না। শুনানি ১০ মিনিটের বেশি হয় না। বেশির ভাগ সময় কুর্দি ভাষায় শুনানি হয়। আরবিভাষী ওই শিশুরা যার কিছুই বুঝতে পারে না। বিচার শেষে কেআরজি আদালত শিশুদের ছয় থেকে নয় মাসের কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে, ফেডারেল আদালতে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘন করে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের মধ্যেই তাদের রাখা হয়। এমনকি ছাড়া পাওয়ার পরও এই গ্রেপ্তার–আতঙ্ক, নির্যাতন থেকে পরিত্রাণ পায় না তারা।
এইচআরডব্লিউ মনে করে, ইরাকের ফেডারেল ও কেআরজি সরকারের এই প্রক্রিয়ায় নিপীড়ন ও গ্রেফতারের বিষয়টি বন্ধ করা উচিত। যদিও কেউ বড় কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে কেবল তাকেই শাস্তির মুখোমুখি করার পক্ষে তারা।
-জেডসি
