হাসিনা-খালেদা টেলি সংলাপ
প্রকাশিত : ০৪:৫৬ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৩ শনিবার | আপডেট: ০৮:০১ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৩ সোমবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম
ঢাকা : সকল উত্কন্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সরাসরি কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া৷ প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় বিরোধী দলীয় নেত্রীকে ফোন করেন৷ এসময় তাদের প্রায় ৩৭ মিনিটি কথা হয়৷
গণভবনে বসে গুলশানের বাড়িতে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় হরতাল প্রত্যাহারের আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী৷ আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার গণভবনে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি৷
এর আগে শনিবার দুপুরে শেখ হাসিনা টেলিফোন করে খালেদা জিয়াকে পাননি৷ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার পর বিএনপি চেয়ারপারসনকে পুনরায় ফোন করে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী৷
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাড়িতেই ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন৷ কথা বলার পর বিএনপি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে৷
শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতাকে বলেন, '২৮ তারিখ রাতে খাওয়ার জন্য আপনাকে দাওয়াত করছি৷ যতজন খুশি নিয়ে আসতে পারেন৷ আমি আপনাকে দাওয়াত দিচ্ছি আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করতে গণভবনে আসার জন্য৷'
তিনি বলেন, 'আগামী নির্বাচন নিয়ে আমি ইতোমধ্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি, তা আপনি জানেন৷'
বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপনি হরতাল প্রত্যাহার করে নেন৷ দেশ ও জনগণের স্বার্থে হরতাল প্রত্যাহার করে নিন৷'
এর আগে দুপুরে ফোন করেও বিরোধীদলীয় নেতাকে পাননি শেখ হাসিনা৷ বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন যাবত খালেদা জিয়ার বাড়ির টেলিফোনটি বিকল হয়ে আছে৷
পরে প্রধানমন্ত্রীর এডিসি বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেন৷ শেখ হাসিনা এডিসির মোবাইল ফোনেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন৷
শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম৷ আমি রেড টেলিফোন থেকে নিজের হাতে ফোন করেছি৷ বারবার রিং হয়েছে৷ আমি দুঃখিত যে আপনি ধরতে পারেননি৷
'ফোন ডেড, না কি ডেড করে রাখা হয়েছে, বলতে পারছি না৷ আগামীকাল আমি দেখব৷'
কথা বলার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান৷
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান৷
আগামী নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কূটনীতিক ও রাজনৈতিক মহলের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমপ্রতি দুই প্রধান দলের সাধারণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের টেলিফোন আলোচনায় সংলাপের আবহ তৈরি হয়৷
বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপের উদ্যোগ নিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালে তাকে ফোন করেন আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম৷ 