শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৪ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
সন্তানের শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক সময় শিশুদের চেয়ে তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকদের মধ্যে বেশি প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতা তাদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুরা যাতে শিক্ষাটাকে আপন করে নিতে পারে।
বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
পড়ালেখার জন্য শিশুদের অতিরিক্ত চাপ দেয়া উচিত নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে শিক্ষার প্রতি তাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। তারা যেন শিক্ষাটাকে আপন করে নিতে পারে, নিজেদের মতো করে পড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
খেলার ছলে শিশুদের লেখাপড়া করানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের ভয় দেখিয়ে কখনও লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করা যাবে না। খেলার ছলে, আনন্দ দিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বই দিচ্ছি, বৃত্তির টাকা দিচ্ছি, টিফিন দিচ্ছি। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে যত টাকা লাগে আমরা দিচ্ছি। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষার মান যেন বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, অনেক সময় দেখেছি- কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়ানে ভর্তির জন্য ছাপানো প্রশ্নপত্রে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এটি তাদের ওপর মানসিক অত্যাচার। এটি করলে কীভাবে হবে। এটি বন্ধ করতে হবে। যারা বড়লোক তাদের শিশুদের বড় স্কুলে পড়াতে চান। কিন্তু সবার জন্য শিক্ষাকে সাধারণ করতে হবে। শিশুরা যেন হেসেখেলে শিখতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, সেই সঙ্গে শিশুরা যেন খেলাধুলা করতে পারে সে ব্যবস্থাও নিতে হবে শিক্ষকদের। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক গঠনও যেন হয় সেদিকেও যত্ন নিতে হবে । প্রতিবন্ধী, অটিজম শিশুদের অবহেলা করা যাবে না। বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে যেন তারা লেখাপড়া করতে পারে সে দায়িত্বও শিক্ষকদের নিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, একটা সময় আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে মনের মধ্যে ভীতি কাজ করতো। না জানি বোর্ডের পরীক্ষা কি? এমন একটা আতঙ্ক কাজ করতো। কিন্তু এখনকার শিশুরা আর ভয় পায় না। তারা ছোট বেলা থেকেই বোর্ড পরীক্ষা দিতে পারছে।
শিক্ষাকে সহজ করে ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, বাচ্চাদের নিকটবর্তী স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। প্রাথমিকে স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা। আজকের শিশুরাই গড়বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। তাই সরকার প্রাইমারি থেকেই শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ সময় শিক্ষা ক্ষেত্রে নেয়া সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, তার ব্যবস্থা নেব। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার চালু করেছি। আমরা ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করে দিয়েছি। প্রায় ১৫ হাজার নতুন প্রাইমারি স্কুল নির্মাণ করেছি। শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়িয়েছি।
এর আগে সকাল ১০টায় এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বছর ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ ঘোষণা করা হয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি’।
এ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস, দেশে ও বিদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার, আলোচনাসভার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
-জেডসি
