স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান পারভীন
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৪৩ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৯ শনিবার
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩ বাংলাদেশির মধ্যে একজন হুসনে আরা পারভীন (৪২)। মসজিদের অপর পাশে থাকা অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাঁটা গ্রামের মৃত নুরুদ্দিনের মেয়ে পারভীন ছিলেন ৫ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। ফরিদ ও পারভীন দীর্ঘদিন ধরে ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের বড় বোন রুশনা বেগম বলেন, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় নিউজিল্যান্ডে থাকা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে তারা পারভীনের মৃত্যুর খবর পান।
এদিকে পারভীনের মৃত্যুর সংবাদে তার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতের ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী জানান, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের যে এলাকায় তারা থাকতেন তার খুব কাছেই আল নূর মসজিদ। মসজিদের একপাশে নারী ও অন্য পাশে পুরুষ মুসল্লিদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।
শুক্রবার ঘটনার খানিক আগে হুসনে আরা তার প্যারালাইসিস আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যান। এরপর হুইল চেয়ারে থাকা স্বামীকে পুরুষদের নামাজের জায়গায় রেখে নিজে অপর পাশে নারীদের স্থানে নামাজ পড়তে যান। কিছুক্ষণ পরই পুরুষদের মসজিদের ভেতরে গুলির শব্দ শুনে স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সেখানে দৌড়ে যান তিনি। এ সময় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন। নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহত পারভীনের মরদেহ এখনো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি বলেও জানান মাহফুজ।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন তার আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন। গোলাগুলির ঘটনার সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
নিহত পারভীন ও ফরিদ উদ্দিন দম্পতির এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১৯৯৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ডে চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন।
