ক্রাইস্টচার্চে নিহত ওমর ফারুকের দাফন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৯ বুধবার
ছবি: সংগৃহীত
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি ওমর ফারুকের লাশ তার নিজ বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দাফন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক। ৩ বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবোনের এখনও বিয়ে হয়নি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন ওমর ফারুক। সংসারে সচ্ছলতা আনতে প্রথমে গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। কয়েক বছর কাটানোর পর দেশে এসে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে গত চার বছর ধরে থাকতেন। দুবছর আগে দেশে এসে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী সানজিদা জামান নিহা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বুধবার সকাল ১০টায় বন্দরের সিরাজউদৌলা ক্লাব মাঠে জানাজার পরে ওমর ফারুকের লাশ বন্দর কবরস্থানে দাফন করা হয়। বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিমানে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৫ বাংলাদেশির মধ্যে ওমর ফারুক ও জাকারিয়া ভূঁইয়ার মরদেহ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। এর পর স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় কফিন জড়িয়ে স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বন্দরের রাজবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে ওমর ফারুকের লাশ পৌঁছালে নিহা স্বামীর কফিন জড়িয়ে আহাজারি করছিলেন আর বলছিলেন- সন্তানের মুখ দেখার আগেই তুমি চলে গেলে এমনভাবে। আমার সন্তান পৃথিবীতে এলে আমি তাকে কী বলব, কীভাবে বোঝাব। ওমর ফারুকের ভগ্নিপতি সানোয়ার হোসেন বলেন, তার (ওমর ফারুক) মা বয়স্ক, তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। ওমর ফারুক প্রতিদিন দুবার করে মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন। ছেলের এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা। তিনি এখন পাগলপ্রায়। ছেলের জন্য বিলাপ করছেন, আর বুক চাপড়াচ্ছেন।
১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে জুমার নামাজের পর সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।
নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলেটের হোসনে আরা আহমেদ ও কুড়িগ্রামের ড. আবদুস সামাদকে ক্রাইস্টচার্চে দাফন করা হয়েছে। ওই হামলায় আহত কিশোরগঞ্জের লিপি, গাজীপুরের মুতাসিম ও শেখ হাসান রুবেল চিকিৎসাধীন।
-জেডসি
